কালীঘাটের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় বড় ধাক্কা! সুপ্রিম কোর্টে মিলল না কোনও স্বস্তি

বেআইনি লেনদেন এবং আর্থিক তছরুপের অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর পক্ষ থেকে কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই কঠোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। তবে হাইকোর্টের একক বেঞ্চ ইডির সিদ্ধান্তে কোনো রকম হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে। হাইকোর্টের সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে দ্রুত সুপ্রিম কোর্টের আপিল করা হলেও, শীর্ষ আদালত তাতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিল না।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এমএম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পিবি ভারালের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এই হাই-প্রোফাইল মামলার শুনানি ওঠে। এদিন ইডির পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু জোরালো সওয়াল করে আদালতে জানান যে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমে নিয়মিত ও ক্রমাগত বেআইনি আর্থিক লেনদেন পরিচালিত হচ্ছিল, যার ফলেই নিয়মানুযায়ী অ্যাকাউন্টগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল তীব্র আপত্তি জানিয়ে প্রশ্ন তোলেন যে, ইডি কি এমন একটিও নির্দিষ্ট বেআইনি লেনদেনের তথ্য বা উদাহরণ দেখাতে পারবে, যার ওপর ভিত্তি করে অ্যাকাউন্টগুলো পুরোপুরি ফ্রিজ করা হয়েছে? তিনি আরও আক্ষেপ করে বলেন যে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকায় দলের সাধারণ কর্মীদের নিয়মিত বেতন পর্যন্ত দেওয়া যাচ্ছে না। আদালত যেন বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক ও জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করে।

যেহেতু বর্তমানে সংশ্লিষ্ট দলীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোর লেনদেন ও কার্যক্রম তদারকি করার জন্য একজন স্বতন্ত্র প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাই দলের দৈনন্দিন কাজকর্ম ও প্রশাসনিক পরিচালনার খাতিরে প্রশাসকের নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক ক্ষমতা থাকা উচিত এবং তিনি যেন প্রয়োজনে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যবহার করতে পারেন, সেই মর্মে এদিন একটি বিকল্প প্রস্তাবও দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এ বিষয়ে ইডির আইনজীবীকে নিজেদের মতামত ও বক্তব্য জানানোর জন্য আদালত সময় দিয়েছে। আগামী সপ্তাহে মঙ্গলবার এই মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, পিএমএলএ (PMLA) বা আর্থিক তছরুপ বিরোধী আইনের কঠোর ধারার আওতায় তৃণমূলের মোট তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। এই অ্যাকাউন্টগুলিতে তৎকালীন সময়ে দলের প্রায় ৪৪০ কোটি টাকার বিশাল তহবিল জমা ছিল বলে জানা যায়। বড় অংকের তহবিল তছরুপের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তল্লাশি অভিযান চালানোর পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর বিরুদ্ধে প্রথমে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যেখানে আদালত জানিয়েছিল যে এখনই ইডির ফ্রিজ করা অ্যাকাউন্টের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ করা হবে না। পাশাপাশি, তৃণমূল কংগ্রেস ও ইডি উভয়পক্ষকেই আগামী পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা পেশ করে নিজেদের বক্তব্য স্পষ্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনি লড়াইয়ের এই টানটান পরিস্থিতির মাঝেই এখন আগামী সপ্তাহের মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী আদেশের দিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।