বস্তায় ভরে খুন! বারুইপুর ধর্ষণকাণ্ডে আনন্দ সর্দারের বীভৎস স্বীকারোক্তি, শিউরে উঠবে তদন্তকারীরাও!

বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তোলপাড়। এনকাউন্টারে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যুর পর এখন তদন্তের সমস্ত ফোকাস ঘুরে গেছে বাকি তিন অভিযুক্ত—আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার এবং কবির মোল্লার ওপর। পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) এখন এই তিনজনকে একে অপরের সামনে বসিয়ে জেরা করছে, আর তাতেই বেরিয়ে আসছে এই হত্যাকাণ্ডের বীভৎস সব তথ্য।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন রাতে প্রভাস মণ্ডলের টাওয়ার লোকেশন এবং বাকি তিন অভিযুক্তের লোকেশন হুবহু একই জায়গায় ছিল, যা তাদের অপরাধের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকার চূড়ান্ত প্রমাণ। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার জেরায় যে রোমহর্ষক বিবরণ দিয়েছে, তা শোনার পর খোদ পুলিশ আধিকারিকরাই শিউরে উঠছেন। জেরায় আনন্দ কবুল করেছে যে, ঘটনার দিন নাবালিকাকে প্রথমে প্রভাস মণ্ডল পুকুর লাগোয়া একটি পরিত্যক্ত ঝুপড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই ওঁত পেতে ছিল আনন্দ সর্দার ও দিবাকর সর্দার।
অভিযুক্তদের বয়ান অনুযায়ী, ঝুপড়ির ভেতরে ওই নাবালিকার ওপর নারকীয় যৌন নির্যাতন চালানো হয়। কিশোরী সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে নৃশংসভাবে আক্রমণ করা হয়। মেয়েটি যাতে কোনোভাবেই চিৎকার করতে না পারে, সেজন্য তার হাত পিছমোড়া করে বেঁধে ফেলা হয়। এরপরও সে চিৎকার করার চেষ্টা করলে আনন্দ সর্দার তার ঘাড়ে প্রচণ্ড আঘাত করে, যার ফলে কিশোরী জ্ঞান হারায়। এরপর অচৈতন্য অবস্থায় তাকে একটি বস্তার ভেতরে জোর করে ভরে দেওয়া হয়। তদন্তকারীদের মতে, বস্তার ভেতর শ্বাসরোধ করেই মেয়েটিকে মেরে ফেলা হয়েছিল।
এই ঘটনার পুনর্নির্মাণের (Crime Scene Reconstruction) জন্য প্রভাস মণ্ডলকে যেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, খুব শীঘ্রই পুলিশ বাকি অভিযুক্তদেরও সেখানে নিয়ে যাবে। ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে প্রতিটা খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখা হবে যাতে জেরায় পাওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তবের মিল পাওয়া যায়। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা প্রত্যেকেই অত্যন্ত ধূর্ত এবং তারা বারবার বয়ান বদলে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু টাওয়ার লোকেশন ডাম্পিংয়ের রিপোর্ট এবং ফরেনসিক তথ্যের মুখে পড়ে এখন তারা একে একে সত্য স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে।
বারুইপুরের এই ঘটনায় অভিযুক্তদের জেরা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ এখন একটি সুনির্দিষ্ট চার্জশিট তৈরির কাজ শুরু করেছে। এদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে বারুইপুরে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। পুলিশি নিরাপত্তার বলয় কড়া করা হয়েছে যাতে কোনোভাবেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে। ঘটনার শিকার নাবালিকার পরিবারের সদস্যদের দাবি, এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রতিটি অপরাধীর যেন ফাঁসি হয়। অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারের এই স্বীকারোক্তি মামলার মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিয়েছে বলে মনে করছে আইন বিশেষজ্ঞরা।