জন্মদিনের আগেই নিথর তানিশা! স্কুলের সামনে স্কুলভ্যানের চাকায় পিষ্ট ৫ বছরের শিশু

জন্মদিনের কেক কাটার প্রস্তুতি ছিল তুঙ্গে। শুক্রবারই পাঁচ বছর পেরিয়ে ছয় বছরে পা রাখার কথা ছিল তানিশার। কিন্তু উৎসবের সেই আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে বদলে গেল। কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুর উত্তর তালুকের দাসানাপুরায় স্কুলের সামনে এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল পাঁচ বছরের এক শিশুকন্যা। স্কুলের সামনে দিদির জন্য অপেক্ষা করার সময় স্কুলভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
জানা গিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় নিজের মা এবং দিদি কনিকাকে স্কুল থেকে আনতে গিয়েছিল তানিশা। দিদি কনিকা স্কুল থেকে বেরনোর সময় হওয়ার আগেই স্কুলের মূল ফটকের সামনে অপেক্ষা করছিল তানিশা। সেই সময় একটি স্কুলভ্যান স্কুল চত্বর দিয়ে দ্রুত গতিতে যাওয়ার সময় হঠাৎ করেই ভ্যানটির সামনে চলে আসে শিশুটি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, চালক ব্রেক কষার চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি। ভ্যানটির চাকা সরাসরি শিশুটির শরীরের ওপর দিয়ে চলে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সব শেষ! চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছানোর আগেই ঘটনাস্থলে তানিশার মৃত্যু হয়।
এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে স্থানীয় মানুষজন স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তানিশার মা। যে সন্তানকে হাসি-খুশি অবস্থায় স্কুল থেকে দিদিকে নিতে নিয়ে এসেছিলেন, সেই সন্তানের এমন অকাল মৃত্যু কোনোমতেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। আগামী শুক্রবার নিজের ষষ্ঠ জন্মদিন উদযাপনের জন্য ছোট্ট তানিশা অধীর আগ্রহে দিন গুনছিল, কিন্তু সেই দিনটি এখন পরিবারের কাছে চিরস্থায়ী শোকের দিন হয়ে থাকবে।
খবর পাওয়ার পরই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সময় স্কুলভ্যানটির গতি কতটা ছিল, চালকের কোনো গাফিলতি ছিল কি না এবং স্কুলের সামনে নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্কুলের সামনেই ভ্যানগুলোর অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা নেই। এমন একটি ফুটফুটে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুতে ক্ষোভে ফুঁসছেন অভিভাবকরা। স্কুল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রতিটি দিক খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের স্বার্থে চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তানিশার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস। যে পরিবারে খুশির আমেজ থাকার কথা ছিল, সেখানে এখন কেবলই হাহাকার।