বস্টন ইউনিভার্সিটির খরচ জোগাচ্ছেন কীভাবে? অভিজিতের শিক্ষাগত ও আর্থিক উৎস নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে!

ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বস্টন ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষার খরচ ও আর্থিক উৎস ঘিরে বর্তমানে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। সুরতের এক সমাজকর্মী তথা আরটিআই (RTI) কর্মী অমিত তিওয়ারি এই বিষয়ে তথ্য জানার অধিকার আইনে আবেদন করে অভিজিতের পরিবারের আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মূল প্রশ্ন ছিল, একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীর মাসিক আয়ের ওপর ভর করে কীভাবে বিদেশে এত বড় অঙ্কের পড়াশোনার খরচ জোগানো সম্ভব? এই চাঞ্চল্যকর বিতর্কের জেরে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) এবং খোদ অভিজিৎ দীপকে সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন।

প্রখ্যাত সাংবাদিক বরখা দত্তকে দেওয়া একটি একান্ত সাক্ষাৎকারে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অভিজিৎ দীপকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁর বিদেশের পড়াশোনার পিছনে বিন্দুমাত্র কোনো অঘোষিত পারিবারিক সম্পত্তি বা অবৈধ অর্থের হাত নেই। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, তাঁর উচ্চশিক্ষার সম্পূর্ণ খরচ বহন করা হয়েছে বস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে প্রাপ্ত বিশেষ স্কলারশিপ এবং একটি ব্যাংক শিক্ষাঋণের (Education Loan) যৌথ মাধ্যম দিয়ে। এই দাবির সত্যতা প্রমাণ করতে তিনি সাক্ষাৎকারে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপের মূল চিঠিটিও ক্যামেরার সামনে প্রদর্শন করেন। তিনি যোগ করেন যে, এই শিক্ষাঋণের অর্থ তাঁকে পরবর্তীতে ধাপে ধাপে পরিশোধ করতে হবে।

এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল যখন সুরতের আরটিআই কর্মী অমিত তিওয়ারি মহারাষ্ট্র সরকার ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে অভিজিৎ দীপকের পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে তদন্তের দাবি জানান। তিওয়ারির প্রধান যুক্ত ছিল যে, অভিজিতের বাবা ভগবানরাও দীপকে একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী হিসেবে মাসিক ষাট থেকে পঁয়ষট্টি হাজার টাকা পেনশন বা বেতন পেতেন। সেই সীমিত আয়ের মধ্যে মার্কিন মুলুকে গিয়ে বিলাসবহুল বা অত্যন্ত ব্যয়বহুল উচ্চশিক্ষা কীভাবে সম্ভব হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

সংগঠনের ভবিষ্যৎ অর্থায়ন এবং রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়েও মুখ খুলেছেন CJP প্রতিষ্ঠাতা। তিনি জানান, ভবিষ্যতে তাঁদের দল ও সংগঠনটি সম্পূর্ণরূপে ক্রাউডফান্ডিং (Crowdfunding)-এর ওপর নির্ভর করবে। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অনুদান নিয়ে সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে এবং এই অর্থ লেনদেনের গোটা প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ রাখা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

পাশাপাশি, সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে NEET-UG প্রশ্নফাঁস ও পরিবেশ আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুককে সমর্থন জানিয়ে CJP-র আন্দোলন নিয়েও তিনি নানা তথ্য তুলে ধরেন। জুন মাসের শেষ দিকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন জুলাই মাসে ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির মাধ্যমে চরম রূপ নেয়। গত ২০ জুলাই সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিন প্রবল বৃষ্টি এবং পুলিশের কড়া ব্যারিকেড উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা মিছিল করেন। পরিশেষে, গত ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করায় আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রী ও যুবসমাজের একটি বড় দাবি পূরণ হয়।