জঙ্গি যোগ মামলায় বড় আপডেট! এসটিএফের জালে হামিম মণ্ডলের ঘনিষ্ট সহযোগী!

বাংলায় জঙ্গি নেটওয়ার্ক এবং হানিট্র্যাপের এক গভীর ও চাঞ্চল্যকর ষড়যন্ত্রের পর্দা ফাঁস করল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। জঙ্গি সন্দেহে ধৃত হামিম মণ্ডল ও তাঁর বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে ম্যারাথন জেরা করে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড থেকে আদিত্য সিং ওরফে রাজু নামের আরও এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার রাতে তাকে প্রথমে আটক করা হয় এবং দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর সোমবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত আদিত্য জঙ্গি কার্যকলাপে হামিমকে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করত এবং রাজ্যের এক প্রভাবশালী মন্ত্রী উমেশ রাই ও তাঁর পুত্র সম্পর্কিত সমস্ত সংবেদনশীল তথ্য পাচার করার নেপথ্যেও তার হাত ছিল।
গোয়েন্দা সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, হামিম ও তার সহযোগীরা বাংলায় মন্ত্রী ও ভিআইপিদের টার্গেট করে হানিট্র্যাপের জন্য একটি বিশেষ মহিলা গ্যাং তৈরি করার ছক কষেছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় সুন্দরী ও উঠতি মডেলদের টার্গেট করে এই সিন্ডিকেটটি জাল বিস্তার করছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, রাজ্যের অন্তত ৬ জন মন্ত্রী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের এই হানিট্র্যাপের ফাঁদে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই জঘন্য কাজের জন্য ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জের বাসিন্দা অর্পিতা সরকারকে মডেলিং ও অভিনয়ের লোভনীয় টোপ দিয়ে দলে টেনেছিল হামিম। অর্পিতাকে বোঝানো হয়েছিল যে হানিট্র্যাপের এই পথে সে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারবে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, হাওড়ার মন্ত্রীর পুত্রকে হানিট্র্যাপ করে বিপুল টাকা তোলবাজি করার পুরো ছকটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে খোদ পাকিস্তান থেকে অর্পিতাকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছিল। গোয়েন্দাদের দাবি, পাকিস্তানের কুখ্যাত জঙ্গিগোষ্ঠী শেহজাদ ভাট্টি এবং তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্থানের শীর্ষ নেতৃত্ব এ রাজ্যে এই মহিলা গ্যাং সক্রিয় করার পেছনে সরাসরি যুক্ত রয়েছে। হামিমের মতো স্থানীয় এজেন্টদের ব্যবহার করে তরুণীদের প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুত্ব করতে এবং পরবর্তীতে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে হানিট্র্যাপের জালে ফাঁসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে প্রায় চার মাস ধরে মন্ত্রীর ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল অর্পিতা। শুধু অর্থ আদায়ই নয়, পরবর্তীতে ওই মন্ত্রীর ছেলেকে অপহরণ করার মতো মারাত্মক পরিকল্পনাও এই চক্রের ছিল। এসটিএফ এখন খতিয়ে দেখছে এই চক্রের সঙ্গে আর কারা কারা সরাসরি জড়িত রয়েছে এবং অন্য কোনো হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিকে এর আগে ফাঁদে ফেলা হয়েছে কি না।