বন্যা-বিধ্বস্ত ধুপগুড়িতে শুভেন্দুর হুঙ্কার! ‘উত্তরবঙ্গে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুধু হাওয়া দেখতে এসেছেন’, কটাক্ষ বিরোধী দলনেতার

জলপাইগুড়ির ধুপগুড়িতে বন্যা-বিধ্বস্ত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ বন্টন করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গের জলঢাকা নদীর বন্যায় ধুপগুড়ি এবং পার্শ্ববর্তী এলাকা বিপর্যস্ত হয়। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরবঙ্গ সফর নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করলেন শুভেন্দু।
ত্রাণ বিতরণের মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “উত্তরবঙ্গে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু হাওয়া দেখতে এসেছেন। তৃণমূলের নেতারা মুখ দেখে দেখে ত্রাণ বন্টন করছেন, যারা তৃণমূল করেন না, তাদের ভাগ্যে জুটছে না কিছুই।” তিনি অভিযোগ করেন, বন্যা দুর্গতদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে, তাতে ব্যাপক অনিয়ম ও রাজনীতি চলছে।
নাগরাকাটা কাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক শুভেন্দু
এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী নাগরাকাটার সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ত্রাণ দিতে গিয়ে জলপাইগুড়িতে বিজেপি সাংসদ ও বিধায়ক আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁর কথায়, এই আক্রমণ আসলে তৃণমূলের ‘সন্ত্রাসবাদ মডেল’।
শুভেন্দু বলেন, “প্রাণঘাতী আক্রমণে কারা যুক্ত? এটা বিশেষ সম্প্রদায়ের কিছু উচ্ছৃঙ্খল আইন অমান্যকারীর জমায়েত, যা ঘৃণ্য অপরাধ ও অরাজকতার জন্য পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছিল।” তিনি হুঁশিয়ারি দেন, রাজ্যে আইনের শাসন ফিরে এলে এই বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধ হবে।
SIR ও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে চরম বার্তা
রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন (SIR) নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রেক্ষাপটে শুভেন্দু অধিকারী মালদহের তৃণমূল মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের নাম ধরে সরাসরি আক্রমণ করেন।
তিনি অনুপ্রবেশকারী মুসলিমদের উদ্দেশ্যে চরম বার্তা দিয়ে বলেন, “তৃণমূলের কথায় রাস্তায় নামবেন না আপনারা। রাস্তায় নেমে অশান্তি করলে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে।” তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মূলত অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বরাবরকার অভিযোগকেই ফের একবার উসকে দিলেন।
শুভেন্দু অধিকারীর ধুপগুড়ি সফর এবং তাঁর আক্রমণাত্মক মন্তব্য, উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করল।