“বন্ধ হরমুজ প্রণালী, পণবন্দি বিশ্ব অর্থনীতি!”- ৬০ দেশের বৈঠকে কড়া হুঁশিয়ারি ভারতের, বিপাকে তেহরান

হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের হাহাকার। একদিকে ইরানের অনড় মনোভাব, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধ্বংসাত্মক হুঁশিয়ারি— সব মিলিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে পারস্য উপসাগরে। এই সংকট নিরসনে বৃহস্পতিবার ব্রিটেনের উদ্যোগে আয়োজিত হাইভোল্টেজ ভার্চুয়াল বৈঠকে ইরানকে কার্যত কাঠগড়ায় তুলল ভারত-সহ ৬০টি দেশ।

ভারতের কড়া অবস্থান: ‘রক্ত ঝরছে আমাদেরই’

ব্রিটেনের ফরেন সেক্রেটারি ইভেট কুপারের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি অত্যন্ত কড়া ভাষায় নিজের বক্তব্য পেশ করেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, এই জলপথে অস্থিরতার জেরে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ভারত। তিনি বলেন, “এই জলপথে একমাত্র ভারতীয় নাবিকরাই প্রাণ হারিয়েছেন।” গুজরাট উপকূলে আসার পথে ‘ময়ূরী নারী’ নামক পণ্যবাহী জাহাজে রহস্যময় হামলায় ৩ জন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে ধরে অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী খোলার দাবি জানায় নয়াদিল্লি।

ট্রাম্প বনাম ইরান: চরম সংঘাতের পথে বিশ্ব

হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়া নিয়ে আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই আক্রমণাত্মক। ইরানকে সরাসরি হুমকি দিয়ে তিনি বলেছেন, “ইরানকে অবিলম্বে চুক্তি করতে হবে, নয়তো ওদের ধবংস করে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেব!” জবাবে ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, আমেরিকা বা তার বন্ধু দেশগুলির একটি তেলবাহী জাহাজও এই পথ দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে তেহরান।

বৈঠকের নির্যাস: ইরানকে চারমুখী চাপের ছক

আমেরিকাকে বাইরে রেখে ব্রিটেনের আয়োজিত এই বৈঠকে ৬০টি দেশ ইরানকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাস’ চালানোর দায়ে অভিযুক্ত করেছে। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সামরিক ও কূটনৈতিক— দুই পথই খোলা রাখা হচ্ছে। গৃহীত ৪টি প্রধান পদক্ষেপ হলো:

  • কূটনৈতিক চাপ: রাষ্ট্রপুঞ্জের মাধ্যমে ইরানকে পথ খুলে দিতে বাধ্য করা।

  • নিষেধাজ্ঞা: তেহরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ।

  • নাবিক উদ্ধার: ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের সাহায্যে আটকে পড়া হাজার হাজার নাবিককে মুক্ত করা।

  • যৌথ নিরাপত্তা: সমুদ্রপথে বিশ্ববাণিজ্য সচল রাখতে ৬০টি দেশের একযোগে কাজ করা।

ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং নিজেদের নাগরিকদের প্রাণের সুরক্ষায় তারা কোনো আপস করবে না। এখন দেখার, আন্তর্জাতিক এই চাপের মুখে ইরান মাথা নোয়ায় নাকি পারস্য উপসাগরের জল আরও তপ্ত হয়ে ওঠে।