মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভারত এখন এক কঠিন ‘উভয় সঙ্কটের’ মুখে। রণক্ষেত্র হয়ে ওঠা হরমুজ প্রণালীতে এখনও আটকে রয়েছে ভারতের ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ। এর ফলে এলপিজি ও অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা চরম ধাক্কা খেয়েছে। রাশিয়া বা আমেরিকা থেকে গ্যাস আনা সম্ভব হলেও, তার পরিবহন খরচ আকাশছোঁয়া। এই অগ্নিমূল্য পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার রুট বদলে পশ্চিম আফ্রিকার দিকে ঝুঁকছে নয়াদিল্লি।
সূত্রের খবর, নাইজেরিয়া, আলজেরিয়া এবং অ্যাঙ্গোলা থেকে এলপিজি আমদানির পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে ভারত। পাশাপাশি ক্যামেরুন ও মোজাম্বিক থেকেও এলএনজি আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে ১০টি বিদেশি জাহাজও ভারতের দিকে আসার পথে আটকে পড়ায় চিন্তা বাড়ছে কেন্দ্রীয় সরকারের। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো খালি জাহাজও পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।
তবে এই সংকটের মধ্যেও প্রতিবেশিদের পাশে দাঁড়াতে ভোলেনি ভারত। গত ২৪ ঘণ্টায় মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ৭০০০ টন ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছে। এপ্রিলেই ৪০ হাজার টন ডিজেল যাবে বাংলাদেশে। একইসঙ্গে চরম জ্বালানি সংকটে ভোগা শ্রীলঙ্কাকেও ৩৮ হাজার মেট্রিক টন তেল পাঠিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় বড় দাদার ভূমিকা পালন করে চলেছে ভারত।