বন্ধ হতে বসা পুজো এখন বিশ্ববাংলা শারদ সম্মানে ভূষিত, কীভাবে ঘুরে দাঁড়াল শালবনী ব্লকের পিড়াকাটা?

একসময় মাও আতঙ্কে যেখানে পুজো প্রায় বন্ধই হতে বসেছিল, সেই জঙ্গলমহল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনী ব্লকের একদা ‘মাও আঁতুড়ঘর’ হিসেবে পরিচিত পিড়াকাটা এবার দুর্গাপূজায় এক বিশাল চমক নিয়ে হাজির হচ্ছে। পিড়াকাটা বাজার দুর্গাপূজা কমিটির এবারের থিমের নাম – ‘দেশ সুরক্ষায় বীর জওয়ানরা।’
পহেলগাঁওয়ের সাম্প্রতিক জঙ্গি-হামলা এবং তার জবাবে ভারতীয় সেনার পাল্টা অভিযানে পাকিস্তানের সমস্ত জঙ্গি ঘাঁটি নিকেশ করে দেওয়ার ঘটনাই এবারের থিমের মূল উপজীব্য।
৪৫ লক্ষের থিমে যুদ্ধের মুহূর্ত
পুজো উদ্যোক্তারা জানান, প্রায় ৪২ লক্ষ টাকার প্যান্ডেলে এবার অত্যাধুনিক আলোকসজ্জা ও অ্যানিমেশনের মাধ্যমে কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ জঙ্গি-হামলা এবং ভারতীয় সেনার পাল্টা অভিযানের প্রতিটি মুহূর্ত ফুটিয়ে তোলা হবে।
প্রদর্শনীতে যা থাকছে: মণ্ডপে আকাশে উড়বে রাফাল ও সুখোই যুদ্ধবিমান। দেখানো হবে অত্যাধুনিক S-400 মিসাইল সিস্টেম। জঙ্গি ঘাঁটি থেকে সেনা ক্যাম্প, কর্নেল সোফিয়া কুরেশি ও উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং-এর সাংবাদিক বৈঠকের দৃশ্যও উঠে আসবে মণ্ডপসজ্জায়।
শান্তির বার্তা: পুজো কমিটির সম্পাদক তথা স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান পরিমল ধল জানান, যুদ্ধ শেষে শান্তির বাতাবরণের মধ্য দিয়ে মণ্ডপসজ্জা শেষ হবে।
বাজেট: কোষাধ্যক্ষ গৌতম দাস জানান, মণ্ডপ, প্রতিমা সহ পাঁচ দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অন্নকূট বিতরণ, রক্তদান ও বস্ত্রদান শিবিরসহ পুজোর মোট বাজেট ধরা হয়েছে ৪০-৪৫ লক্ষ টাকা।
মাও আঁতুড়ঘর থেকে বিশ্ববাংলা সম্মান
পুজো কমিটির অন্যতম সদস্য গৌতম দাস অতীতের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ২০০৮-’১০ সালে মাও আতঙ্কের দিনগুলিতে গ্রামের একমাত্র দুর্গাপূজোও প্রায় বন্ধ হতে বসেছিল।
পরিবর্তন: সরকার পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ২০১৮ সাল থেকে পিড়াকাটা বাজার দুর্গাপূজা কমিটির উদ্যোগে ধুমধাম সহকারে পুজো আয়োজিত হতে শুরু করে।
স্বীকৃতি: প্রথম বছরই শালবনী ব্লকের সেরা পুজোর শিরোপা পাওয়া এই পুজো ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বিশ্ববাংলা শারদ সম্মানেও ভূষিত হয়েছে।
পুজো উদ্যোক্তারা এবারও জেলার শ্রেষ্ঠ পুজো হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী।