বদলে যাচ্ছে রাজ্যের রেল মানচিত্র! ৩৬ হাজার কোটির মেগা প্রকল্পে কী কী বড় উপহার পাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ?

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক গতির সঞ্চার হয়েছে বলে দাবি করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। পূর্ব রেল, দক্ষিণ-পূর্ব রেল এবং উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল সূত্রে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ অনুযায়ী, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ২৫টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্পের কাজ একেবারে শেষের পথে রয়েছে। এই সমস্ত জনমুখী ও পরিকাঠামোগত প্রকল্পগুলিতে ইতিমধ্যেই আনুমানিক প্রায় ৮,৯০২ কোটি টাকা বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলির নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হলে রাজ্যের সাধারণ মানুষ ও যাত্রীরা প্রায় ৮৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সম্পূর্ণ নতুন এবং সর্বাধুনিক রেল পরিকাঠামোর অভাবনীয় সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
রেল দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভারতীয় রেলওয়ের পূর্ব জোন, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত জোন এবং দক্ষিণ-পূর্ব জোনের প্রত্যক্ষ আওতায় থাকা একাধিক কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ বর্তমানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এগিয়ে চলেছে। এর পাশাপাশি দেশের ও রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করতে আরও ২১টি বৃহৎ রেল প্রকল্পের কাজ হয় খুব শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে অথবা ইতিমধ্যেই তার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। এই নতুন ও মেগা প্রকল্পগুলির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১,১৬৭ কিলোমিটার এবং এর জন্য আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৬,৬৫১ কোটি টাকা।
অতীতে সম্পন্ন হওয়া অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলির লম্বা তালিকার মধ্যে রয়েছে রামপুরহাট–মন্দরহিল নতুন রেললাইন, আজিমগঞ্জ–মুর্শিদাবাদ নতুন রেললাইন, বর্ধমান–কাটোয়া ও আহমেদপুর–কাটোয়ার গেজ পরিবর্তন, পাঁশকুড়া–খড়গপুর, লালগোলা–জিয়াগঞ্জ, কৃষ্ণনগর–বেথুয়াডহরি, নবদ্বীপধাম–পাতুলি, পলাশী–জিয়াগঞ্জ, নিউ কোচবিহার–গুমানিহাট, ব্যান্ডেল–বইঁচি, বইঁচি–শক্তিগড় এবং পুরুলিয়া–কোটশিলা-সহ একাধিক অতি গুরুত্বপূর্ণ ডাবলিং ও তৃতীয় রেললাইনের যুগান্তকারী কাজ।
অন্যদিকে, বর্তমানে যে প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুত গতিতে চলমান রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে চাণ্ডিল–দামোদর তৃতীয় রেললাইন, তারকেশ্বর–বিষ্ণুপুর নতুন রেললাইন, কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিভক–রংপো রেললাইন, বালুরঘাট–হিলি, কালিয়াগঞ্জ–বুনিয়াদপুর, খড়গপুর–আদিত্যপুর, নারায়ণগড়–ভদ্রক, সাঁতরাগাছি–খড়গপুর, রানাঘাট–বনগাঁ ডাবলিং, নিউ জলপাইগুড়ি–শিলিগুড়ি ডাবলিং এবং রামপুরহাট বাইপাস রেললাইন-সহ মোট ২১টি বড় প্রকল্প।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাজি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, অতীতে রেল প্রকল্পের কাজ শুরুর ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা এক বিরাট বাধা হয়ে দাঁড়াত এবং এর জন্য রাজ্য সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে হতো। তবে বর্তমান সময়ে সেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। তাঁর সুনির্দিষ্ট দাবি অনুযায়ী, এখন রাজ্য সরকার অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে জমি সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার দ্রুত ও কার্যকর সমাধান করে দিচ্ছে, যার ফলে রাজ্যজুড়ে রেলের প্রতিটি প্রকল্পের কাজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।
রেল কর্তৃপক্ষের দৃঢ় বিশ্বাস, এই সমস্ত মেগা প্রকল্পগুলির কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হলে পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত আরও সুগম ও দ্রুততর হবে, অন্যদিকে তেমনই পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থা আরও অনেক বেশি কার্যকর হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর সুদূরপ্রসারী প্রভাবে রাজ্যের শিল্প, বাণিজ্য এবং সামগ্রিক গ্রামীণ ও শহরভিত্তিক আঞ্চলিক অর্থনীতিতে এক নতুন ও ইতিবাচক গতির সঞ্চার হবে।