বদলে যাচ্ছে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর! ৬৯ হাজার টাকার বাম্পার বেতনের দাবি ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের তোড়জোড়ের মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ন্যূনতম মূল বেতন নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বর্তমানে ন্যূনতম মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা হলেও, ন্যাশনাল কাউন্সিল-জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি (NC-JCM)-এর কর্মী-প্রতিনিধিরা তা বাড়িয়ে ৬৯,০০০ টাকা করার জোরালো দাবি তুলেছেন। এই দাবির পেছনে কেবল অনুমানের ভিত্তিতে নয়, বরং জীবনযাত্রার ব্যয় ও পারিবারিক চাহিদাকে কেন্দ্র করে এক বৈজ্ঞানিক হিসাব সামনে এনেছে কর্মী সংগঠনগুলো।
দাবির নেপথ্যে নতুন হিসাব:
সপ্তম বেতন কমিশন যেখানে তিন-ইউনিটের পরিবারকে ভিত্তি ধরেছিল, সেখানে কর্মী প্রতিনিধিরা প্রস্তাব দিয়েছেন পাঁচ-ইউনিটের পরিবার কাঠামোকে মানদণ্ড হিসেবে ধরার। এই নতুন মডেলে কর্মী, জীবনসঙ্গী এবং দুই সন্তানের পাশাপাশি নির্ভরশীল বাবা-মা ও শ্বশুর-শাশুড়িকেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। তাঁদের যুক্তি, বর্তমান বাজারে টিকে থাকতে হলে জীবনযাত্রার খরচের আধুনিক প্রতিফলন প্রয়োজন।
কীভাবে ৬৯,০০০ টাকার অঙ্ক?
NC-JCM-এর নতুন প্রস্তাবিত বেতন গণনার সূত্রের কিছু বিশেষ দিক রয়েছে:
ক্যালোরি গ্রহণ: আইসিএমআর (ICMR)-এর সুপারিশ অনুযায়ী দৈনিক ৩,৪৯০ ক্যালোরি গ্রহণের খরচকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যান্য ব্যয়: আবাসন খরচ ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭.৫ শতাংশ এবং জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও জলের খরচ ব্যয়ের ২০ শতাংশ ধরা হয়েছে।
দক্ষতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা: দক্ষতা উন্নয়নের জন্য ২৫ শতাংশ এবং বিবাহ, উৎসবসহ সামাজিক দায়বদ্ধতার জন্য ৫ শতাংশ বাড়তি ব্যয় ধরা হয়েছে।
এই সব কটি বিষয়ের সমন্বয়েই ন্যূনতম বেতন ৬৯,০০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই অঙ্কের সঙ্গে ১৮,০০০ টাকার বর্তমান বেতনের অনুপাত বিচার করলে ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ গিয়ে দাঁড়ায় ৩.৮৩৩-এ। কর্মচারী সংগঠনগুলোর দাবি, পেনশন সংশোধনের ক্ষেত্রেও যেন এই ৩.৮৩৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরই কার্যকর করা হয়।
সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ:
উল্লেখ্য যে, ৬৯,০০০ টাকার প্রস্তাবটি বর্তমানে কেবল কর্মচারী পক্ষের একটি সুপারিশ। অষ্টম বেতন কমিশন সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে সরকারের কাছে চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করবে। সরকার যদি এই প্রস্তাবের অংশবিশেষও গ্রহণ করে, তবে তা পুরো বেতন কাঠামো বা ‘পে ম্যাট্রিক্স’-এ বিশাল পরিবর্তন আনবে। এর ফলে শুধু ন্যূনতম মূল বেতন নয়, বরং সব স্তরের সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন, ভাতা এবং পেনশনেও বড়সড় বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হবে। এখন গোটা দেশের সরকারি কর্মীরা কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।