বইয়ের ভারে নয়, আত্মবিশ্বাসে বড় হচ্ছে খুদেরা! একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর উদ্যোগেই পাল্টে যাচ্ছে হাজারো জীবনের গল্প

বেঙ্গালুরুর ‘মাল্য অদিতি আন্তর্জাতিক স্কুল’-এর একাদশ শ্রেণির ছাত্রী রোশনি গুপ্তা। যে বয়সে সমবয়সীরা স্কুল ও কোচিংয়ের রুটিন নিয়ে ব্যস্ত থাকে, সেই বয়সেই রোশনি হয়ে উঠেছে ১৬০০-রও বেশি দুঃস্থ ছাত্রছাত্রীর অনুপ্রেরণা। ১৪ বছর বয়স থেকে শুরু করা তার এক উদ্যোগ, আজ আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে ৫টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

সবকিছু শুরু হয়েছিল মাত্র তিন বছর আগে। রাজাজিনগরের সরকারি স্কুল ও বিভিন্ন অনাথাশ্রমে যাওয়ার সময় রোশনি লক্ষ্য করে এক অদ্ভুত সমস্যা। পড়ুয়াদের মেধায় ঘাটতি নেই, কিন্তু যেই মুহূর্তে তাদের ইংরেজি ভাষায় কথা বলার কথা বলা হয়, তারা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। শিক্ষকের সামনে মুখ লুকিয়ে বই-খাতার দিকে চেয়ে থাকাই তখন তাদের একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়ায়। ‘দ্য বেটার ইন্ডিয়া’-কে রোশনি জানান, “তাদের বোঝার ক্ষমতার অভাব ছিল না, সমস্যা ছিল নিজেকে প্রকাশ করার ভয়।”

এই উপলব্ধি থেকেই ২০২৩ সালের অগাস্টে মাত্র ১৪ বছর বয়সে জন্ম নেয় ‘প্রজেক্ট বিদ্যা’। তার উদ্দেশ্য ছিল ইংরেজিকে ভয়ের ভাষা না করে, বরং কথোপকথনের মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলা। রোশনির কর্মশালাগুলোতে প্রথাগত বই-কেন্দ্রিক শিক্ষার বদলে গুরুত্ব দেওয়া হয় সক্রিয় অংশগ্রহণ ও পারস্পরিক যোগাযোগের ওপর। চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের নিয়ে শুরু হওয়া এই কর্মশালা আজ বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও দিল্লির সরকারি স্কুল ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পা রেখেছে।

২০২৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ‘প্রজেক্ট বিদ্যা’ পাঁচটি দেশে মোট ৪৮টি কর্মশালা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। প্রায় ১,৬৮০ জন শিক্ষার্থী সরাসরি এই কর্মশালার সুবিধা পেয়েছে। শুধু তাই নয়, বই দান কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৫,০০০ শিশু নতুন করে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে। রোশনির এই লড়াই কেবল ইংরেজি শেখানোর জন্য নয়, তার লক্ষ্য পড়ুয়ারা যেন বুঝতে পারে যে তাদের প্রতিটি মতামত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে একাদশ শ্রেণিতে পড়ার পাশাপাশি নিজের পড়াশোনার চাপ সামলে সে চালিয়ে যাচ্ছে এই মহৎ কাজ। রোশনির কথায়, “আমি চাই পড়ুয়ারা বুঝুক তাদের কণ্ঠস্বর গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ইংরেজিতে নয়, যে কোনও ভাষায়, যে কোনও পরিবেশে তারা যেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যায়।” রোশনির এই নিরলস প্রচেষ্টা প্রমাণ করে, পরিবর্তনের জন্য বিশাল কোনো মঞ্চের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন শুধু মনের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি। হাজারো স্বপ্নহীন চোখে আলোর দিশা দেখিয়ে রোশনি বুঝিয়ে দিয়েছে, তারুণ্যের শক্তিই পারে নতুন পৃথিবী গড়ে তুলতে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy