টলিপাড়ায় নতুন বিস্ফোরণ! স্বরূপ বিশ্বাসের ‘অনারারি কার্ড’ বাতিলের দাবিতে ইমেল, তোলপাড় গিল্ডে

টলিপাড়ার ফেডারেশন বিতর্ক যেন এক গোলকধাঁধা। নতুন সরকার গঠনের পর ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলের অনেক পুরনো ক্ষোভ এবং বেনিয়মের অভিযোগ নতুন করে ডানা বাঁধতে শুরু করেছে। এই আবহেই এবার ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সরব হলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর গিল্ডের সদস্য সব্যসাচী বসু। তিনি সরাসরি তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরে ইমেল পাঠিয়ে স্বরূপ বিশ্বাসের গিল্ডের অনারারি কার্ড বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

সব্যসাচীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ফেডারেশনের ক্ষমতার অন্দরে এমন কিছু অলিখিত নিয়ম চাপিয়ে রাখা হয়েছিল, যার মাশুল দিতে হয়েছে বহু প্রতিশ্রুতিবান অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরকে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের পর থেকে কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয় নতুন সদস্যপদ। অথচ এর কোনো যৌক্তিক কারণ আজও অজানা। এখানেই শেষ নয়, সব্যসাচীর অভিযোগ, সেই সময় ইউনিটে কাজ করার ক্ষেত্রে অদ্ভুত সব বিধিনিষেধ চালু করা হয়েছিল। কোনো ইউনিটে ২০১৮ সালের কার্ডধারী দু’জন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর একসঙ্গে কাজ করতে পারতেন না। যদি তিনজন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর থাকতেই হতো, তবে অন্তত একজনকে ২০১৮ সালের আগের সদস্য হতে হতো।

সব্যসাচী নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানান, ২০১১ সাল থেকে ৫০টিরও বেশি প্রজেক্টে কাজ করার পরেও, সঠিক নথি জমা দেওয়ার পরও গিল্ড তাঁর পদোন্নতির আবেদনে কোনো ভ্রুক্ষেপ করেনি। অরিজিৎ সিংয়ের একটি প্রজেক্টের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানে একই বছরের কার্ডধারী হওয়ায় তাঁকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। এমনও হয়েছে যে, কাজের সুযোগ পেতে নিজের পকেট থেকে অন্য একজনকে বসিয়ে রেখে তিনি নিজে কাজ করেছেন। সব্যসাচীর স্পষ্ট অভিযোগ, এই ধরনের নিয়মের জটিলতায় বহু মেধাবী শিল্পী কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, আর এই ক্ষমতার অপব্যবহারের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস।

সব্যসাচীর আরও গুরুতর দাবি, এই অনারারি কার্ডের জোরেই স্বরূপ বিশ্বাস বছরের পর বছর ফেডারেশনের সভাপতির পদটি ‘পকেটে’ রেখেছিলেন। তাঁর মতে, ২০১১ সালের পর থেকে ওই পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকা এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বারবার নির্বাচিত হওয়ার ঘটনাটি কেবল প্রভাব খাটিয়েই সম্ভব। প্রযোজনা সংস্থাগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে নিজেদের পছন্দের লোকেদের কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং নতুনদের দমিয়ে রাখার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তাতে ইন্ডাস্ট্রির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।

তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরে পাঠানো ইমেলে সব্যসাচী স্বরূপ বিশ্বাসের অনারারি কার্ড অবিলম্বে বাতিলের দাবি তুলেছেন। তাঁর আশঙ্কা, অতীতের সেই অস্থিরতা এবং প্রভাব খাটিয়ে নিজের আধিপত্য বজায় রাখার প্রবণতা যদি ভবিষ্যতে আবার শুরু হয়, তবে টলিপাড়ার অপূরণীয় ক্ষতি হবে। এখন প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যের সংশ্লিষ্ট দফতর এই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করবে নাকি স্বরূপ বিশ্বাসের কার্ড বহাল থাকবে? টলিপাড়ার এই জটিল সমীকরণে সব্যসাচীর এই ইমেল কি শুধুই বিতর্কের নতুন খোরাক, নাকি সত্যিই কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপের সূচনা? উত্তরের অপেক্ষায় এখন পুরো টলিউড।