ফের মেট্রোয় মৃত্যুর ঘটনা, হাওড়া স্টেশনে রাজ্য সরকারি কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যু! কাঠগড়ায় মেট্রো কর্তৃপক্ষ

গত সপ্তাহে দক্ষিণেশ্বর মেট্রো স্টেশনে এক ছাত্র খুনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার হাওড়া মেট্রো স্টেশনে ঘটল আরেক মর্মান্তিক ঘটনা। মঙ্গলবার সকালে এক রাজ্য সরকারি কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে, যা নিয়ে হাওড়া মেট্রো স্টেশনের জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার বিবরণ
মৃত ব্যক্তির নাম বিশ্বজিৎ পাকড়াশি (৫১), যিনি রাজ্য বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটের মেট্রো ধরার জন্য তিনি প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎই তিনি অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিত যাত্রীরা দ্রুত মেট্রোর নিরাপত্তারক্ষীদের খবর দেন। সেই সময়েই সেখানে এসে পৌঁছান তার সহকর্মী সঞ্জয় চক্রবর্তী।
সঞ্জয় চক্রবর্তী জানান, “আমি ৯টা ৩৫ মিনিটের মেট্রো ধরার জন্য প্ল্যাটফর্মে এসে দেখি একটা জটলা। কাছে গিয়ে দেখি বিশ্বজিৎ মাটিতে পড়ে আছে। আমি মেট্রো কর্মীদের কাছে সাহায্য চাইলে তারা কেউ কিছু বলতে পারেনি। আমি বারবার চিৎকার করে বলি, চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন, কিন্তু তারা একে অপরের মুখের দিকে তাকাচ্ছিল।”
পরিবারের অভিযোগ
মৃতের সহকর্মী সঞ্জয় চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, “মেট্রো কর্তৃপক্ষ প্রায় ৪৫ মিনিট সময় নষ্ট করেছে। তাদের কাছে কোনো জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিল না। একটি স্ট্রেচার এনে একটি ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে শুধুমাত্র একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ছিল, কিন্তু কোনো মাস্ক ছিল না, কোনো চিকিৎসক তো দূরের কথা।” তিনি আরও বলেন, “আমি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে বললে তারা একটি সাধারণ গাড়ি ভাড়া করে আনে। তাতেই তাকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ডাক্তার পরীক্ষা করে জানান, আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।”
সঞ্জয়ের দাবি, যদি সময়মতো তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যেত, তাহলে হয়তো তাকে বাঁচানো যেত। সরাসরি মেট্রো কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
মেট্রো কর্তৃপক্ষের পাল্টা দাবি
তবে, মেট্রো কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সকাল ৯টা ৩০ নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছিল এবং ৯টা ৪৮ মিনিটে মেট্রো কর্মীরাই গাড়ির ব্যবস্থা করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, প্রয়োজনীয় পরিষেবা তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া হয়েছে এবং ৪৫ মিনিট সময় নষ্টের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এই ঘটনা আবারও মেট্রো স্টেশনগুলোতে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, বিশেষ করে যখন গত কয়েক মাসে একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।