ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা আর কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না—নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এই হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের রাস্তা ও ফুটপাথ জবরদখল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মাঝে এই প্রথম বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী।
জনগণের অধিকার সবার আগে: সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানালেন, “ফুটপাথ দিয়ে হাঁটার অধিকার জনগণের। সেটি জবরদখলের অধিকার কারও নেই। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ বা গোষ্ঠীর জন্য সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ আটকে রাখা চলবে না।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, কলকাতার বড় রাস্তা বা ফুটপাথ কাউকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়ার অধিকার সংবিধান তাঁকে দেয়নি।
হকারদের জন্য বিকল্প ভাবনা: উচ্ছেদ হওয়া হকারদের রুজি-রোজগার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও মুখ্যমন্ত্রী মানবিকতার পথেই হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যেখানে সরকারের উদ্বৃত্ত বা খালি জায়গা আছে, যেখানে জনগণের চলাচলে কোনো বাধা নেই, সেখানে হকারদের পুনর্বাসনের কথা মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিবেচনা করা হবে।”
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
সরে যাওয়ার নির্দেশ: আপাতত হকারদের রাস্তা থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
সরকারি স্কিম: হকারদের জন্য খুব শীঘ্রই বিশেষ সরকারি স্কিম আনা হচ্ছে। কেন্দ্রের শ্রম স্কিমের সুবিধাও তাঁদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
কড়া অবস্থান: নিউ মার্কেট, রাজাবাজার, খিদিরপুর বা মেটিয়াবুরুজের মতো জনবহুল এলাকায় রাস্তা দখল করে যা খুশি করার প্রবণতা আর চলতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
হকার উচ্ছেদ ও বিজেপি সরকার: দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রাজ্য জুড়ে হকার উচ্ছেদ ও দোকান ভাঙার ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। বিরোধীদের নিশানা ও সাধারণ মানুষের প্রশ্নের মুখে এতদিন চুপ থাকলেও, শুক্রবারের এই সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন যে, শৃঙ্খলা ফেরাতে তিনি কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হবেন না। তবে একই সঙ্গে তিনি এও নিশ্চিত করেছেন যে, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি হকারদের রুজি-রুটির বিষয়টিও সরকারের মাথায় রয়েছে।





