মার্কিন স্কুলে বন্দুকবাজ রুখতে আসছে ড্রোন! ১৫ সেকেন্ডেই হামলাকারীকে ঘায়েল করার তাক লাগানো প্রযুক্তি!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক স্কুল চত্বরে বন্দুকবাজের হামলার ঘটনা রুখতে এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করতে এবার বিশেষ নজরদারিতে ড্রোন মোতায়েন করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে একাধিক মার্কিন স্কুল।

প্রাথমিকভাবে জর্জিয়ার পাঁচটি, ফ্লোরিডার তিনটি এবং কলোরাডোর একটি স্কুলে এই অত্যাধুনিক ড্রোন মোতায়েন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থার দাবি, ক্যাম্পাসে কোনো ‘অ্যাকটিভ শুটার’-এর মতো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে, এই ড্রোন মাত্র ১৫ সেকেন্ডের মধ্যেই সরাসরি ঘটনাস্থলে বা হামলাকারীর ঠিক কাছাকাছি পৌঁছে যেতে সম্পূর্ণ সক্ষম।

স্কুল ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বাহিনীকে তাৎক্ষণিক তথ্য সরবরাহ করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়ার সময় নাটকীয়ভাবে কমাতেই এই প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রাণহানির ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরও দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

আমেরিকার অস্টিন-ভিত্তিক প্রযুক্তি সংস্থা ‘মিথ্রিল ডিফেন্স’ (Mithril Defense) তৈরি করেছে বিশেষ এই প্লাস্টিকের নন-লেথাল বা প্রাণঘাতী নয় এমন ড্রোন। সংস্থার দাবি, এটিই বিশ্বের প্রথম “Active Shooter Suppression Device”, যা সক্রিয় বন্দুকধারীর হামলার মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে দ্রুত হস্তক্ষেপ করার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে।

কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এই ড্রোন অল্প সময়ের মধ্যেই হামলাকারীর কাছে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখবে। যেহেতু এটি নন-লেথাল, তাই এর মূল লক্ষ্য হামলাকারীকে প্রাণঘাতী আঘাত করা নয়, বরং তাকে সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ অক্ষম করে নিরাপত্তা বাহিনী পৌঁছানোর আগের সময়টুকু পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা।

নন-লেথাল ড্রোনগুলি স্কুলে বন্দুক হামলার সময় অত্যন্ত দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম। বিপদের সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই ড্রোন স্কুলের ভেতরে বিদ্যুৎগতিতে উড়ে যাবে এবং প্রয়োজনে জানালার কাচ ভেঙেও ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে।

এই ড্রোন টার্গেটের ওপর পেপার জেল স্প্রে করবে, বিকট শব্দে সাইরেন বাজাবে এবং তীব্র স্ট্রোব লাইট ফ্ল্যাশ করবে। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে ঘণ্টায় প্রায় ৬০ মাইল অর্থাৎ প্রায় ৯৭ কিলোমিটার বেগে উড়ে গিয়ে হামলাকারীকে সরাসরি ধাক্কাও মারতে পারবে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো হামলাকারীকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও সাময়িকভাবে অক্ষম করে রাখা।

প্রতিটি স্কুলে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ থাকবে এবং প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে স্থাপন করা হবে প্যানিক বাটন। সম্ভাব্য কোনো হামলার খবর পেলেই এই ড্রোনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয়ে উঠবে। একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে এই ড্রোন প্রায় ৮ মিনিট পর্যন্ত আকাশে উড়তে পারে এবং এটি ৯০০ মেগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সিতে নিখুঁতভাবে কাজ করে।