‘ফর্ম ফিলাপে ঢিলেমি নয়, টিকিট চাই পারফরম্যান্স’! বিধায়ক-সাংসদদের ৯ দিনের ‘ব্যাগ-বস্তা’ ডিউটি দিলেন অভিষেক

দলের দেওয়া কাজে কোনওরকম শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না—এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার কাজে শতভাগ সাফল্য আনতে হবে। ভার্চুয়াল বৈঠকে বিধায়ক ও সাংসদদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি শুধু হুঁশিয়ারি দেননি, সময় বেঁধে দিয়ে নেতাদের জন্য ৯ দিনের বিশেষ কর্মসূচি ও জেলার দায়িত্বও ভাগ করে দিয়েছেন।
আগামী ৯ দিন একাধিক জেলায় পড়ে থেকে কাজ করবেন সাংসদ-বিধায়করা। বিশেষ করে ফর্ম ফিলাপ ও অ্যাপে তথ্য তোলার কাজে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিষেক। তিনি বহু জায়গায় বিএলএ ২ (Booth Level Agent 2)-এর কাজ নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর কথায়, “নির্বাচনটা এখন আর ঘোষণার পর তিন মাসের নয়। এটা এখন ৬ মাসের। তাই এখন থেকে বাকি সব ভুলে দল যাকে যে দায়িত্ব দেবে সেটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে।”
পারফরম্যান্সই শেষ কথা, ‘অলস’ নেতাদের হুঁশিয়ারি
অভিষেক এদিন বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা দেন, “যাঁরা মনে করছেন, তাঁদের ভোট হয়ে গিয়েছে তাই অতটা গা না-লাগলেও চলে, তাঁরা ভুল করছেন। পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই দল আপনাদের ভোটের টিকিট দেবে।”
সংগঠনগতভাবে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর কাজে যে বিধানসভা কেন্দ্রগুলি বেশ ভালো ফল করেছে, সেগুলি হল—ধনেখালি, হরিপাল, সিঙ্গুর, করণদিঘি, তারকেশ্বর, বালি, গোয়ালপোখর, রঘুনাথগঞ্জ, চাকুলিয়া ও রায়গঞ্জ।
অন্যদিকে, সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা কেন্দ্রগুলির মধ্যে রয়েছে বালিগঞ্জ, বনগাঁ দক্ষিণ, বেলেঘাটা, এন্টালি, মধ্যমগ্রাম, কলকাতা পোর্ট, কাশীপুর বেলগাছিয়া ও চৌরঙ্গী। উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার অনেক জায়গায় বিএলএ-২-রা রেজিস্ট্রেশন করছেন না এবং ফর্ম ভরা বা সাবমিট করার যে তৎপরতা দরকার, সেটাও হচ্ছে না বলে অসন্তোষ প্রকাশ করেন অভিষেক। এই কারণে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং ফিরহাদ হাকিমকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন। মঙ্গলবার উত্তর কলকাতার সাংগঠনিক বৈঠক ডাকা হয়েছে মোহিত মঞ্চে।
৯ দিনের বিশেষ ডিউটি ও জেলার দায়িত্ব বণ্টন
এসআইআর-এর কাজে গতি আনতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সিনিয়র নেতাদের নিয়ে একটি দল গঠন করেছেন। তিনি বলেন, “সিনিয়র লিডারদের নিয়ে আমি একটা টিম করছি। ২৬ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর হয়ে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলার দায়িত্ব দেওয়া হবে তাদের। আগামী ৯ দিন ব্যাগ বস্তা নিয়ে চলে যান। এদের কাজ ওয়ার রুম ভিজিট করা। আমি তাদের সঙ্গে রোজ জেলার রিপোর্ট নিয়ে মিটিং করব।”
দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা হলেন:
ফিরহাদ হাকিম – কলকাতা
অরুপ বিশ্বাস – হুগলি ও দুই বর্ধমান
স্নেহাশিস চক্রবর্তী – কৃষ্ণনগর, রাণাঘাট
মানস ভুইয়া – বাঁকুড়া, পুরুলিয়া
মলয় ঘটক – পশ্চিম মেদিনীপুর
সামিরুল ইসলাম – মালদা ও উত্তর দিনাজপুর
বেচারাম মান্না – পূর্ব মেদিনীপুর
প্রসূন ব্যানার্জি – দক্ষিণ দিনাজপুর
দিলীপ মন্ডল – কোচবিহার
প্রদীপ মজুমদার – পশ্চিম বর্ধমান
সুজিত বোস – বনগাঁ, বসিরহাট, রাণাঘাট
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য – ঝাড়গ্রাম
পাশাপাশি, ১০ জন সাংসদের একটি দল মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে যাবে। তাঁরা নির্বাচন কমিশনে গিয়ে এসআইআর পর্বে এখনও পর্যন্ত মৃত ৩৫ জনের কাগজ জমা দিয়ে কৈফিয়ত চাইবে।