ফরেন্সিক ছাত্রীর ‘পারফেক্ট ক্রাইম’ ফ্লপ! লিভ-ইন পার্টনারকে খুন করে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের সাজানো দৃশ্য, কয়েক সপ্তাহে ধরা পড়লেন তরুণী

পারফেক্ট ক্রাইম’ (Perfect Crime) করার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত নিজেকে বাঁচাতে পারলেন না এক তরুণী। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ধরা পড়ে গেছেন তিনি। দিল্লির ওই তরুণী, যিনি ফরেন্সিক সায়েন্সের ছাত্রী (Forensic Student), ভেবেছিলেন অপরাধ জগতের কৌশলগুলি বই ও ওয়েব সিরিজের মতো নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করে এমন এক হত্যাকাণ্ড ঘটাবেন যা তদন্তকারীরা নিছক দুর্ঘটনা (Accident) বলেই মনে করবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রমাণ হয়ে গেল, সিনেমার মতো বাস্তবে ‘পারফেক্ট ক্রাইম’ বলে আদতে কিছু হয় না।

উত্তর দিল্লির তিমারপুরে লিভ-ইন পার্টনারকে খুন করেন অমৃতা চৌহান। তাঁকে সাহায্য করে তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক এবং এক বন্ধু।

খুনের নৃশংস পদ্ধতি
পুলিশ জানিয়েছে, প্রথমে প্রেমিককে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর অপরাধীরা মৃতদেহে ঘি, তেল ও অ্যালকোহলের মিশ্রণ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল— গোটা ঘটনাটিকে একটি সিলিন্ডার বিস্ফোরণ (Cylinder Blast) বলে বিশ্বাস করানো।

ফরেন্সিক বিষয়ে পড়াশোনা করার সুবাদে অমৃতা জানতেন, কীভাবে অপরাধস্থল বদলে দিতে হয়, কীভাবে আঙুলের ছাপ মুছে ফেলা যায় এবং কীভাবে আগুন লাগার পরিস্থিতি তৈরি করা সম্ভব। তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক, যিনি গ্যাস সিলিন্ডার বিতরণ সংস্থায় কাজ করতেন, তিনি জানতেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণের দৃশ্য কীভাবে বাস্তবসম্মত করে তোলা যায়।

অসঙ্গতি চোখে পড়তেই ফাটল
তিমারপুরের গান্ধী বিহারে ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছলে প্রথমে তাদের কাছেও বিষয়টি দুর্ঘটনা বলেই মনে হয়। ঘর পুড়ে ছারখার, দেহ চেনা যাচ্ছিল না। কিন্তু শিগগিরই কিছু অসঙ্গতি চোখে পড়ে তদন্তকারীদের:

১. মৃতদেহে আগুনের দাগের ধরণ গ্যাস বিস্ফোরণের সঙ্গে মিলছিল না। ২. ঘরের নির্দিষ্ট কোণে আগুনের অস্বাভাবিক তীব্রতা ইঙ্গিত দেয় যে, এখানে ঘি, তেল বা অ্যালকোহলের মতো দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছে।

এতেই ফাটল ধরে অমৃতার ‘নিখুঁত পরিকল্পনা’-য়।

সিসিটিভি ও প্রযুক্তিগত নজরদারিতে গ্রেফতার
ফরেন্সিক দল ঘটনাস্থলে তদন্ত চালানোর পাশাপাশি পুলিশ আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে। সিসিটিভিতে দেখা যায়, আগুন লাগার কিছুক্ষণ আগে, দুই মুখোশধারী পুরুষ একটি ফ্ল্যাটে ঢুকছে, কিছুক্ষণ পর তাঁদের সঙ্গে আসে এক মহিলা। তিনজন বেরিয়ে যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভয়াবহ আগুন লাগে।

মোবাইল লোকেশন ও কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার সময় ওই তরুণী ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলেন। এর ভিত্তিতেই তদন্তের সূত্র ধরে গত ১৮ অক্টোবর মোরাদাবাদ থেকে অমৃতাকে গ্রেফতার করা হয়। পরের কয়েক দিনে ধরা পড়ে তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক ও অপর এক সহযোগীও।

খুনের কারণ ও পরিবারের অবস্থান
তদন্তে জানা যায়, অমৃতা সম্প্রতি জানতে পারেন যে, তাঁর লিভ-ইন পার্টনার গোপনে তাঁর একাধিক অশ্লীল ভিডিও রেকর্ড করে হার্ড ডিস্কে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও সে ভিডিওগুলি মুছতে রাজি হননি। অপমান, ক্ষোভ এবং প্রতিশোধ নিতেই তিনি প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই খুনের পরিকল্পনা করেন।

এদিকে, অমৃতা চৌহান সম্পর্কে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অমৃতাকে আগেই তাঁর পরিবার ত্যাজ্য করেছিল! গত ৮ জুলাই, ২০২৪-এ অমৃতার বাবা-মা সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে মেয়ের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেই বিজ্ঞাপনের কপিও আদালতে নথি হিসেবে জমা পড়েছে।