প্লাস্টিকের জামা পরবে কচিকাঁচারা? স্কুলের নিম্নমানের ইউনিফর্ম ঘিরে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের দেওয়া ইউনিফর্মের গুণমান নিয়ে চরম বিতর্ক দানা বাঁধল দক্ষিণ দিনাজপুরের পতিরামে। আটহর এফপি স্কুলে বিতরণ করা পোশাকগুলি অত্যন্ত নিম্নমানের এবং সম্পূর্ণ পলিয়েস্টার কাপড়ে তৈরি— এই গুরুতর অভিযোগে প্রশাসনের দরজায় কড়া নাড়লেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা। শিশুদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে সরাসরি জেলাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগের তির স্বনির্ভর গোষ্ঠীর দিকে: সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, স্কুল পড়ুয়াদের ইউনিফর্ম তৈরির দায়িত্ব থাকে স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ওপর। পতিরামের ‘যশোদা রানি সঙ্ঘ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড’ থেকে এই স্কুলের পোশাকগুলি তৈরি হয়ে এসেছিল। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের দাবি, পোশাকের কাপড় এতটাই খারাপ যে তা ছোট শিশুদের ব্যবহারের অযোগ্য।

কেন এই প্রতিবাদ? অভিভাবকদের দাবি, পলিইয়েস্টার কাপড় পরলে গরমে শিশুদের অতিরিক্ত ঘাম, চুলকানি এবং চর্মরোগের মতো শারীরিক অস্বস্তি হতে পারে। অভিভাবক টুলটুলি হালদার ও চায়না কর্মকার ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “সরকারি স্কুলের পড়ুয়ারা কি যা ইচ্ছে তাই পরবে? আমাদের সন্তানদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়ে কোনো আপস করব না। আমাদের দাবি, অবিলম্বে এই পোশাক বাতিল করে ভালো মানের সুতির পোশাক দিতে হবে।”

অসহায় স্কুল কর্তৃপক্ষ: বর্তমানে আটহর প্রাইমারি স্কুলে ৮৪ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। স্কুলের টিচার-ইন-চার্জ ব্রতীন রায় জানান, প্রথম দিন থেকেই পোশাকের গুণমান দেখে অভিভাবকরা তা নিতে অস্বীকার করেন। শিক্ষকদের পক্ষ থেকেও এই অভিযোগকে সমর্থন জানিয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।

প্রশাসনের আশ্বাস: বিষয়টি জানাজানি হতেই নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন। দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক বালাসুব্রহ্মনিয়াম টি. অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। অভিভাবক মহলের স্পষ্ট দাবি, প্রয়োজনে বিকল্প কোনো বিশ্বাসযোগ্য গোষ্ঠীকে দিয়ে নতুন করে সুতির ইউনিফর্ম তৈরি করিয়ে দিতে হবে।