‘প্রাণ বাঁচাবো না বাঁধ?’ রাতারাতি বান ভাসাল শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়িতে রাস্তা-নদীর পার্থক্য বোঝাই দায়

সপ্তাহ দু’য়েক আগে দক্ষিণবঙ্গের পর এবার ভারী বৃষ্টি ও হড়পা বানের জোড়া আক্রমণে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের জনজীবন। শিলিগুড়ি থেকে জলপাইগুড়ি হয়ে কোচবিহার পর্যন্ত সর্বত্র একই ছবি—জল থই থই পরিস্থিতি। বানের তোড়ে বাঁধ ভেঙে ২০০-টিরও বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বহু মানুষ ঘরছাড়া।
বাঁধ ভেঙে ঘরছাড়া মানুষ, ত্রাণের জন্য হাহাকার
শিলিগুড়ি সংলগ্ন ১ নম্বর ডাকগ্রামের পোড়াঝার গ্রামে আজ ভোরেই হড়পা বান আসে। রাতারাতি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ঘরছাড়া হয়েছেন বহু মানুষ, যারা বর্তমানে স্থানীয় স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন।
ভয়াবহ পরিস্থিতি বর্ণনা করে স্থানীয় একজন বাসিন্দা দাবি করেন, “রাতে হঠাৎ করেই এখানে হড়পা বান চলে আসে। পরিস্থিতি এমনই ছিল যে লোকজন বাঁধ ভাঙছে দেখেও কিছু করা যায়নি। লোকজন প্রাণ বাঁচাবে না বাঁধ বাঁচাবে? প্রাণ বাঁচাতে গিয়েই বাঁধটা আর বাঁচানো যায়নি।”
পরিস্থিতি মোকাবিলায় মহানন্দা নদীর লকগেট খুলে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে শিলিগুড়ির মেয়র দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন এবং ঘরছাড়াদের হাতে কিছু ত্রাণসামগ্রীও তুলে দেন।
রেল চলাচল ব্যাহত, বাতিল একাধিক ট্রেন
জলপাইগুড়ির বানারহাটে বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে রাস্তা আর নদীর পার্থক্য বোঝাই দায়। চারদিকে শুধু জল আর জল। বানারহাটের রেল ট্র্যাকে জল জমে যাওয়ায় ডুয়ার্সগামী উত্তর-পূর্ব রেলের একাধিক ট্রেন বাতিল করতে হয়েছে।
বাতিল ট্রেন: ১৫৭৭৭ নিউ জলপাইগুড়ি-আলিপুরদুয়ার ট্যুরিস্ট স্পেশাল ট্রেন।
রুট পরিবর্তন: শিয়ালদা-আলিপুরদুয়ার এক্সপ্রেস, আলিপুরদুয়ার-দিল্লি রুটের মহানন্দা এক্সপ্রেসের রুট পরিবর্তন করা হয়েছে।
কোচবিহারে ক্ষোভ, প্রশাসনের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ
কোচবিহার শহরের ছবিটাও একইরকম উদ্বেগজনক। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে জমেছে এক হাঁটু জল, এবং তোর্সা ও মানসাই নদীতে জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আমিনা খাতুন জানান, “ভোর চারটে থেকে ভাসছে ঘরবাড়ি। জিনিসপত্র সব জলমগ্ন। সকলে আসে, দেখে যায়, কিন্তু চলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আর শুধরানোর জন্য কিছু বদল হয় না, কেউ খবরও নেয় না।”
অন্য এক উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সকাল থেকে ঘরের এই অবস্থা, না রান্না করতে পারছি, না খেতে পারছি, না পারছি বাজার যেতে। সাহায্য, ত্রাণ কিছুই দেয়নি, এমনভাবে কী ভাবে চলবে? প্রশাসনের তরফে কেউ খোঁজ করতেও আসেনি।” কোচবিহারের একাধিক ওয়ার্ডের ছবি একইরকম বলে জানা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ চরম নাজেহাল অবস্থায় দ্রুত সরকারি সাহায্যের অপেক্ষা করছেন।