টাকার পাহাড়ে কাঁপছে বাংলা! মালদায় বাইক থেকে উদ্ধার এক ধাক্কায় ৪১ লক্ষ টাকা!

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক জায়গায় যেন টাকার পাহাড়ের সন্ধান মিলছে। বীরভূম ও দুর্গাপুরের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ফের বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদা জেলায়। মালদার গাজোল থানা এলাকার রাঙাভিটা পয়েন্টে একটি মোটরবাইক বা বাইক থেকে প্রায় ৪১ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।
খবর অনুযায়ী, সকালে দুই যুবক একটি মোটরসাইকেলে চড়ে গাজোল থেকে মালদার দিকে রওনা দিয়েছিলেন। সেই সময় গাজোলের রাঙাভিটায় নিয়মিত নাকাচেকিং চালাচ্ছিল পুলিশ। সন্দেহজনক হওয়ায় ওই বাইকটিকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। যুবকদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ খুলতেই পুলিশকর্মীদের চোখ কপালে ওঠে। ব্যাগের ভেতর থেকে উদ্ধার হয় থোকা থোকা নগদ টাকা, যার মোট পরিমাণ প্রায় ৪১ লক্ষ টাকা। বর্তমানে ব্যাংক থেকে মেশিন এনে টাকা গোনার কাজ চলছে। কোথা থেকে এই টাকা এল এবং কোথায় পাচার করা হচ্ছিল, তা জানতে ধৃতদের দফায় দফায় জেরা শুরু করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মালদা জেলায় কোটি কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনা নতুন নয়। কদিন আগেই মালদার মঙ্গলবাড়ি এলাকায় এক প্রাক্তন তৃণমূল নেতার ভাড়া দেওয়া ফ্ল্যাট থেকে মোট ২ কোটি ৪০ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩৮০ টাকা এবং ২০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করেছিল পুলিশ। মাদক কারবারের মূল হোতা পিন্টু সরকারের সেই আস্তানা থেকে টাকা উদ্ধারের পর এবার বাইক থেকে ফের ৪১ লক্ষ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় মালদায় অপরাধ জগতের গভীর যোগ স্পষ্ট হচ্ছে। দক্ষিণ দিনাজপুরের মেহেন্দ্রী পাড়া থেকে কাফ সিরাপ উদ্ধার কাণ্ডের তদন্তে নেমেই পিন্টুর নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছিল পুলিশ।
অন্যদিকে, শুধু মালদহ নয়, রাজ্যজুড়ে চলছে টাকার পাহাড় উদ্ধারের মহা অভিযান। গত ৫ আগস্ট সোমবার দুর্গাপুরের একটি পরিত্যক্ত ইটভাটা থেকে ৪৮ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করেছে ফরিদপুর থানার পুলিশ। স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে চুরির ঘটনার তদন্ত করতে গিয়েই এই টাকার সন্ধান মেলে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ওই চুরির ঘটনার সঙ্গে ইটভাটার টাকার সরাসরি যোগ থাকতে পারে। এর আগে বীরভূমে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত তৎপরতা শুরু করেছে। একের পর এক জেলা থেকে এভাবে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন জাগছে। কারা, ঠিক কী উদ্দেশ্যে এবং কীভাবে এই বিপুল পরিমাণ কালো টাকা এত জায়গায় লুকিয়ে রেখেছিল, তার গভীরে পৌঁছাতে এখন মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে গোয়েন্দা ও পুলিশ প্রশাসন।