প্রশ্নফাঁস আর অনিয়মে ধুঁকছে ভবিষ্যৎ! ১৭ দিন ধরে আমরণ অনশনে বসে কাঁপিয়ে দিলেন পড়ুয়ারা!

সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ঝাড়খণ্ডে ছাত্র আন্দোলনের তীব্রতা চরম আকার ধারণ করেছে। সোমবার রাজধানী রাঁচির রাজপথ কাঁপিয়ে নতুন বিধানসভা ভবন অভিযানের ডাক দেন হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থী। সরকারের সঙ্গে একাধিক দফায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও আন্দোলনকারীদের সমস্ত দাবি পুরোপুরি মেনে না নেওয়ায় এই আন্দোলন ১৭তম দিনে এসে আরও বেশি হিংসাত্মক ও অনমনীয় রূপ নিয়েছে। বর্তমানে ছয়জন আন্দোলনকারী পড়ুয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য আমরণ অনশনে অনড় রয়েছেন, যা হেমন্ত সোরেন সরকারের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।

আন্দোলনকারী ছাত্রনেতা সঞ্জয় মেহতা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত চাকরিপ্রার্থী ও তাঁদের অভিভাবকরা এই মিছিলে যোগ দিয়েছেন। পুরনো বিধানসভা ভবন চত্বর থেকে শুরু করে নতুন বিধানসভা ভবন পর্যন্ত সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে এই মিছিল এগিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও চারপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সিল করে দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীদের মূল এবং একশো শতাংশ অটল দাবির মধ্যে রয়েছে বিতর্কিত JSSC-এর Combined Graduate Level বা CGL পরীক্ষা সম্পূর্ণ বাতিল করা এবং গোটা কেলেঙ্কারির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত অবিলম্বে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা CBI-এর হাতে তুলে দেওয়া। পাশাপাশি ১৪তম JPSC Combined Preliminary Examinationসহ মোট ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের জোরালো দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

পড়ুয়াদের প্রধান অভিযোগ হলো, তাঁরা মোট ১৩টি আলাদা পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানালেও সরকার কূটকৌশল করে মাত্র তিনটি পরীক্ষা বাতিল করেছে এবং বাকি দাবিগুলি ঝুলিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে, ঝাড়খণ্ডের উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রী সুদিব্য কুমার দাবি করেছেন যে সরকার পড়ুয়াদের প্রায় ৯৮ শতাংশ দাবি ইতিমধ্যেই মেনে নিয়েছে এবং দুর্নীতিবাজদের কাউকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। তবে সরকারের এই আশ্বাসে বিন্দুমাত্র ভরসা রাখতে নারাজ অনশনরত পড়ুয়ারা। এদিকে এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা JPSC-র অন্দরে বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়েছে, যেখানে কমিশনের তিন বিশিষ্ট সদস্য—অজীতা ভট্টাচার্য, অনিমা হাঁসদা এবং জামাল আহমেদ—পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন এবং রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গঙ্গওয়ার তাঁদের পদত্যাগপত্র অবিলম্বে গ্রহণ করেছেন।