প্রমাণ লোপাট আর তড়িঘড়ি দেহ সৎকারের অভিযোগ! অবশেষে পুলিশের জালে হেভিওয়েট প্রাক্তন বিধায়ক!

আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্মান্তিক ধর্ষণ ও খুন মামলায় চাঞ্চল্যকর মোড়। মৃতার দেহ জোর করে তড়িঘড়ি সৎকার করা এবং তথ্য-প্রমাণ লোপাট করার গুরুতর অভিযোগে পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে ওড়িশার একটি হোটেল থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সম্প্রতি মৃতার বাবার দায়ের করা সুনির্দিষ্ট এফআইআরের ভিত্তিতে এই হাই-প্রোফাইল পদক্ষেপ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এফআইআর দায়ের হওয়ার পরেই গোয়েন্দাদের চোখে ধুলো দিতে ওড়িশায় পালিয়ে গিয়েছিলেন নির্মল ঘোষ এবং সেখানে তিনি সম্পূর্ণ নতুন একটি সিমকার্ড ব্যবহার করে আত্মগোপন করেছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি; আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে মঙ্গলবার তাঁর মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ। এরপর সুপরিকল্পিত অভিযানে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা নাগাদ পুরী সংলগ্ন একটি হোটেলের ওপর হানা দিয়ে তাঁকে পাকড়াও করা হয়।
বৃহস্পতিবারই ধৃত প্রাক্তন বিধায়ককে ওড়িশার স্থানীয় একটি আদালতে পেশ করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রাতের মধ্যেই ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। শুক্রবার তাঁকে ব্যারাকপুর আদালতে হাজির করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ। গোয়েন্দাদের মূল লক্ষ্য, নির্মল ঘোষকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা এবং শ্মশানে সেদিন ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বা কার নির্দেশে অত দ্রুত দাহকার্য সম্পন্ন করা হয়েছিল, তার সমস্ত গোপন তথ্য বের করা। প্রসঙ্গত, অভয়ার মৃত্যুর দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশেষ স্মরণসভায় যোগ দিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনকে এ বিষয়ে একটি আলাদা মামলা রুজু করে কড়া তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই এই গ্রেপ্তারি রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, মৃতার পরিবারের তীব্র আপত্তি ও বাধা সত্ত্বেও অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পানিহাটির একটি শ্মশানে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, শ্মশানের লাইনে অপেক্ষমাণ অন্য দুটি মৃতদেহকে বেআইনিভাবে টপকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অভয়ার দেহ দাহ করা হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের সমস্ত সম্ভাবনা চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া। এমনকি শ্মশানের দাহকার্যের নথিপত্রে যে সমস্ত স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা মৃতার বাবা-মা বা পরিবারের কোনো সদস্যের ছিল না, বরং সেগুলো ছিল কিছু প্রতিবেশীর। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে ৩১ বছর বয়সী ওই চিকিৎসকের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। বর্তমানে সিবিআই এই নৃশংস ধর্ষণ ও খুনের মামলার মূল তদন্ত চালাচ্ছে, আর স্থানীয় স্তরে প্রমাণ লোপাটের এই অপরাধের তদন্তে পুলিশ এখন প্রাক্তন বিধায়ককে জেরা করে গভীরে পৌঁছাতে চাইছে।