কারা পাবেন, কারা বাদ? অন্নপূর্ণা প্রকল্পের নতুন নিয়ম ও টাকা ঢোকার সঠিক দিন জানাল নবান্ন!

রাজ্যের বহুচর্চিত ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে সমস্ত জল্পনা ও সংশয়ের অবসান ঘটিয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা স্পষ্ট করল রাজ্য সরকার। কোন যোগ্য মহিলারা এই প্রকল্পের আওতায় প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন এবং কোন কোন শর্তের বেড়াজালে বহু মানুষ এই সুবিধা থেকে বাদ পড়বেন, সে বিষয়ে বুধবার নবান্নে এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে সমস্ত দিক পরিষ্কার করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে আবেদনপত্র যাচাই ও স্ক্রুটিনির কাজ একদম অন্তিম পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ১৭ তারিখ সরাসরি যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রথম দফার আর্থিক সহায়তা পৌঁছে যাবে। তবে প্রশাসনিক কর্তারা জানিয়েছেন যে, শুধুমাত্র চলতি মাসের জন্যই এই বিশেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে, কিন্তু পরবর্তী মাস থেকে নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই উপকারভোগীদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, নির্দিষ্ট আয়ের সীমা লঙ্ঘন করলে কোনোভাবেই ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র সুবিধা পাওয়া যাবে না। যেসব পরিবারের নারীদের নিজস্ব মাসিক আয় ১০ হাজার টাকা বা তার বেশি, তারা এই প্রকল্পের বাইরে থাকবেন। এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদনকারী মহিলার বয়স বাধ্যতামূলকভাবে ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই, ২৫ বছরের কম বয়সীরা আপাতত এই আর্থিক অনুদানের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এছাড়া অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারগুলোকে বাদ দেওয়ার জন্য বার্ষিক পারিবারিক আয়ের ঊর্ধ্বসীমা ১২ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো পরিবারের বার্ষিক আয় এই নির্ধারিত সীমার বেশি হলে সংশ্লিষ্ট মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।
জমির মালিকানা এবং সম্পত্তির পরিমাণের ক্ষেত্রেও কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। রাজ্যের সাতটি প্রধান পুরনিগম এলাকার কোনো বাসিন্দার যদি ৫০ ডেসিমেলের বেশি ব্যক্তিগত বা পারিবারিক জমি থাকে, তবে সেই পরিবারের মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। তবে সাধারণ গ্রামীণ এলাকার ক্ষেত্রে কৃষিজমি বা জমিটার পরিমাণের নিয়মে কিছুটা শিথিলতা ও বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মূলত স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই সমস্ত সুনির্দিষ্ট মাপকাঠি নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে রাজ্যের প্রকৃত ও দুঃস্থ মহিলারা কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগীর ঝামেলা ছাড়া সরাসরি সরকারি সহায়তার পূর্ণ সুফল ঘরে তুলতে পারেন।