প্রবীণদের জন্য বিরাট উপহার! বিনামূল্যে বিলাসবহুল বাসে তীর্থযাত্রার সুযোগ দিচ্ছে পাঞ্জাব সরকার!

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান সরকারের জনপ্রিয় ‘মুখ্যমন্ত্রী তীর্থযাত্রা প্রকল্প’ আরও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। প্রবীণ নাগরিকদের পবিত্র তীর্থস্থানে পৌঁছে দিতে এবার একযোগে ১৫টি বিলাসবহুল বাস যাত্রা শুরু করল। হোশিয়ারপুরে আম আদমি পার্টির (আপ) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান যৌথভাবে এই বাসগুলির শুভ সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তাঁরা প্রবীণ তীর্থযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বাসের অন্দরের সুযোগ-সুবিধাগুলি খতিয়ে দেখেন। কেজরিওয়াল জানান যে, এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত চার লক্ষেরও বেশি পুণ্যার্থী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিভিন্ন তীর্থদর্শন করেছেন।

এই প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, একটি পরিবার থেকে ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সি দু’জন সদস্য একসঙ্গে এই ভ্রমণের সুযোগ পেতে পারেন। পাঞ্জাব সরকারের পক্ষ থেকে সমস্ত তীর্থযাত্রীর জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) স্লিপার বাস, বিলাসবহুল হোটেলে থাকার ব্যবস্থা এবং সুস্বাদু খাবারের সুব্যবস্থা করা হয়েছে। বাসগুলির যাত্রার সূচনা করার আগে অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, মানুষের জীবনে তীর্থযাত্রায় বের হওয়া একটি অত্যন্ত দুর্লভ ও বিশেষ সুযোগ। বাসের ভেতরের পরিকাঠামো অত্যন্ত আরামদায়ক এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। পুণ্যার্থীদের যাতায়াত, থাকা বা খাওয়ার জন্য এক টাকাও খরচ করতে হবে না, সমস্ত ব্যয়ভার বহন করছে ভগবন্ত মান সরকার।

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পাঞ্জাব থেকে মোট দেড় লক্ষ মানুষকে বিভিন্ন প্রসিদ্ধ তীর্থস্থানে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। কেজরিওয়াল সমস্ত তীর্থযাত্রীদের নিরাপদ ও আনন্দময় যাত্রা কামনা করেছেন এবং তাঁদের পাঞ্জাবের শান্তি, সুখ ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করে ফিরে আসার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান বলেন যে হোশিয়ারপুর, পাঠানকোট, মুকেরিয়ান ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে সালাসার বালাজি, শ্রী খাতু শ্যাম, বৃন্দাবন, মথুরা এবং ঋষিকেশগামী পুণ্যার্থীদের তিনি আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছেন। বিভিন্ন ধর্মের এই সমস্ত তীর্থস্থান মানবতা ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের এক মহান বার্তা বহন করে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান যে, তীর্থযাত্রীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে প্রত্যেক যাত্রীর জন্য বিশেষ চিকিৎসা বীমার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে তালিকাভুক্ত হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা মিলবে। প্রতিটি বাসে যাত্রীদের সেবায় একজন করে পরিচারক থাকবেন এবং গন্তব্যে নির্বিঘ্ন দর্শনের জন্য বিশেষ দল মোতায়েন করা হয়েছে। যাত্রা শেষে সমস্ত পুণ্যার্থীদের হাতে বিশেষ স্মারক ও প্রসাদ তুলে দেওয়া হবে। জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সমাজের যেকেউ এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন। ইতিমধ্যেই হোশিয়ারপুর, জলন্ধর, কাপুরথালা, পাঠানকোট ও গুরুদাসপুর সহ বিভিন্ন জেলা থেকে বাসগুলি পুণ্যার্থীদের নিয়ে রওনা দিয়েছে।