মেয়ের স্কুল থেকে ফিরে গাড়ি নিয়ে বেরনোই কাল হলো!, উদ্ধার ৪২ বছরের মহিলার দেহ

কলকাতায় ড্রাইভিং শেখার অনুশীলন করতে গিয়ে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে এক মহিলার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বুধবার (১৩ অগাস্ট) কলকাতার কেষ্টপুরের প্রফুল্ল কানন (পশ্চিম) এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ওই মহিলার নাম সুমিত্রা দাস (৪২)। আগামী ২২ অগাস্ট তাঁর ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তার আগেই মর্মান্তিক পরিণতি হলো তাঁর।
ঠিক কী ঘটেছিল বুধবার?
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে সুমিত্রা দেবী তাঁর মেয়েকে স্কুটারে করে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বাড়িতে ফেরেন। এরপর স্কুটারটি বাড়িতে রেখে তিনি গ্যারেজ থেকে স্বামী কৃষ্ণেন্দু দাসের কেনা নতুন গাড়িটি বের করেন। লাইসেন্স পরীক্ষার আগে হাত পাকানোর জন্য তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে অনুশীলন করার চেষ্টা করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গাড়ি চালানোর সময় হঠাৎ করেই সেটি তীব্র গতিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি গভীর পুকুরে গিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে জলমগ্ন হয়ে যায় গাড়িটি। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী ও স্থানীয় থানার পুলিশ। দীর্ঘ এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উদ্ধারকাজ চালিয়ে পুকুর থেকে গাড়িটি ও জলের নিচ থেকে সুমিত্রা দেবীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ও তদন্ত
গাড়িটি উদ্ধারের পর পুলিশ দেখতে পায়, চালকের আসনের বদলে সুমিত্রা দেবীর মুখ পেছনের দরজার দিকে এবং পা স্টিয়ারিংয়ের কাছাকাছি রয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, গাড়িটি যখন জলে ডুবে যাচ্ছিল, তখন জীবন বাঁচাতে তিনি পিছনের দিকে যাওয়ার বা গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে, গাড়ি চালানোর সময় ভুলবশত ব্রেকের পরিবর্তে অ্যাক্সিলারেটরে (এক্সিলারেটর পেডেল) জোরে চাপ দিয়ে ফেলেছিলেন ওই মহিলা। যার জেরে গাড়ির গতি হঠাৎ বহুগুণ বেড়ে গিয়ে সোজাসুজি পুকুরে গিয়ে পড়ে।
মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একজন শিক্ষানবিস চালকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারে কান্নার রোল উঠেছে। পুরো ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।