স্পেসএক্সের রকেটে ইতিহাস গড়ছে ভারত! মহাকাশ থেকে সরাসরি ডেটা পাঠাবে দেশের দুই স্টার্টআপের স্যাটেলাইট

মহাকাশ গবেষণার দুনিয়ায় ফের এক নয়া অধ্যায় জুড়তে চলেছে ভারত। স্পেসএক্সের (SpaceX) ফ্যালকন ৯ (Falcon 9) রকেটের মাধ্যমে মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশের দুটি নামী মহাকাশ গবেষণা স্টার্টআপ। ‘ট্রান্সপোর্টার ১৮’ (Transporter 18) নামের এই ঐতিহাসিক মিশনের মাধ্যমে কক্ষপথে পাড়ি দিচ্ছে আমেদাবাদের ‘স্যাটলিও ল্যাবস’ (SatLeo Labs) এবং হায়দরাবাদের ‘টাকমিটুস্পেস’ (TakeMe2Space)।

১ অক্টোবর রাতে সফলভাবে এই মিশন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। মোট ৫৮ মিনিটের এই মিশনে মহাকাশের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় পে-লোড।

টাকমিটুস্পেসের MOI-1A: স্পেস কম্পিউটিংয়ে নতুন যুগ হায়দরাবাদের স্টার্টআপ ‘টাকমিটুস্পেস’-এর লক্ষ্য মহাকাশে ভারতের প্রথম অর্বিটাল কম্পিউটিং স্যাটেলাইট পাঠানো, যার নাম রাখা হয়েছে ‘MOI-1A’। ১৪ কেজি ওজনের এই স্যাটেলাইটের কম্পিউটিং ক্যাপাসিটি প্রতি সেকেন্ডে ১১৭ ট্রিলিয়ন এবং এতে রয়েছে ২ টেরাবাইটের শক্তিশালী স্টোরেজ। এছাড়াও এতে সংযুক্ত রয়েছে নাইন ব্যান্ড মাল্টি স্পেকট্রাল ইমেজার।

সাধারণত স্যাটেলাইটগুলি মহাকাশ থেকে ছবি তুলে তা পৃথিবীর ডেটা সেন্টারে ডাউনলোড করার পর প্রসেস করে। কিন্তু এই স্যাটেলাইটের ক্ষেত্রে সেই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হবে না। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও রোণক কুমার সামন্ত্রী জানান, এর ফলে সরাসরি কাস্টমারদের কাছে ডেটা পৌঁছে যাবে, যা কৃষি মনিটরিং, সাপ্লাই চেইন ইন্টেলিজেন্স এবং খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।

স্যাটলিও ল্যাবসের TAPAS-1: নিখুঁত তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণে নজর অন্যদিকে, আমেদাবাদের ‘স্যাটলিও ল্যাবস’-এর পে-লোড ‘TAPAS-1’ (Thermal Access Platform for Analytics & Solutions) হল দেশের প্রথম ডেডিকেটেড বাণিজ্যিক কিউবস্যাট (CubeSat) ক্যাটাগরির থার্মাল পে-লোড। এই মিশনে থার্মাল ইনফ্রারেড সেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর সাহায্যে এমন নিখুঁত তাপমাত্রার প্যাটার্ন শনাক্ত করা সম্ভব হবে, যা সাধারণ অপটিক্যাল স্যাটেলাইটের ছবিতে ধরা পড়ে না।

সবমিলিয়ে, স্পেসএক্সের রকেটে ভর করে ভারতীয় এই দুই স্টার্টআপের মহাকাশ যাত্রা দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে এক বিরাট মাইলফলক হতে চলেছে।