প্রধানমন্ত্রীর ব্রেকফাস্ট মিটিংয়ে অনুপস্থিত দেব! জল্পনা তুঙ্গে উঠতেই মুখ খুললেন সাংসদ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে শুক্রবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এনসিপিআই (NCPI)-এর বিদ্রোহী সাংসদদের ব্রেকফাস্ট মিটিংয়ে রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছিল একটি বড় অনুপস্থিতি। তৃণমূল ছেড়ে নতুন শিবিরে যোগ দেওয়া সাংসদরা প্রাতঃরাশ বৈঠকে হাজির থাকলেও, সেখানে দেখা মিলল না অভিনেতা-সাংসদ দেবের। শুধু তাই নয়, শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে হওয়া বৈঠকেও অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছিল জোর জল্পনা। তবে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজেই নিজের অনুপস্থিতির আসল কারণ স্পষ্ট করলেন দেব।

কেন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না দেব?

শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ১৯ জন এনসিপিআই সাংসদের ৪৫ মিনিটের ওই প্রাতঃরাশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঠিক তার আগেই দিল্লিতে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও বৈঠক করেন বিদ্রোহী শিবিরের নেতারা। কিন্তু এই দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কোনওটিতেই দেখা যায়নি ঘাটালের সাংসদ দেবকে। এর পরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে— তবে কি কাকলির গোষ্ঠীর সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন দেব?

এই গুঞ্জন যখন তুঙ্গে, তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিশেষ পোস্ট করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন অভিনেতা। তিনি জানান, পূর্বনির্ধারিত শ্যুটিংয়ের ব্যস্ততা এবং প্রতিশ্রুতির কারণেই তিনি এদিনের কোনও বৈঠকেই যোগ দিতে পারেননি। তবে একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী ও রাজ্যের অন্যান্য নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

কী লিখেছেন দেব?

সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দেব স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, “পূর্বনির্ধারিত শ্যুটিংয়ের প্রতিশ্রুতির কারণে আমি আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক এবং শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ে উপস্থিত থাকতে পারিনি। আমি আগামী দিনে তাঁদের সঙ্গে দেখা করার জন্য মুখিয়ে আছি। রাজ্যের উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং মানুষের কল্যাণে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যাব।”

মোদীর প্রাতঃরাশ বৈঠকে কী হল?

শুক্রবার সকালের এই ব্রেকফাস্ট মিটে উপস্থিত ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ মুর্শিদাবাদের তিন ‘বেসুরো’ সাংসদ খলিলুর রহমান, আবু তাহের খান এবং ইউসুফ পাঠানও। বৈঠকের পরিবেশ ছিল বেশ হালকা ও উৎসাহব্যঞ্জক। জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদী উপস্থিত সাংসদদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ৪০ বছর বয়স পেরোলেই যেন প্রত্যেকে নিয়মিত মেডিক্যাল চেক-আপ ও যোগা করেন। প্রাতঃরাশে নিরামিষ খাবারের আয়োজন থাকলেও প্রধানমন্ত্রী নিজে কেবল চা খান। এই বৈঠকে বিদ্রোহী সাংসদদের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে দেবের এই অনুপস্থিতি এবং তাঁর সাফাইয়ের পর আপাতত টলিপাড়া ও রাজনৈতিক মহলের সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটেছে।