দেশজুড়ে জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশবাসীর কাছে তাঁর আহ্বান, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রত্যেকে যেন বুঝেশুনে এবং সচেতনভাবে পেট্রোল-ডিজেল ব্যবহার করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী বার্তাকে সামনে রেখেই এবার এক অভিনব ও অনুকরণীয় পন্থা নিলেন ত্রিপুরার প্রথম সারির মন্ত্রী রতনলাল নাথ। সাধারণ মানুষের নজর কেড়ে এবং ভিআইপি সংস্কৃতির বাইরে বেরিয়ে তিনি বেছে নিলেন পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন।
সম্প্রতি আগরতলায় নিজের বাড়ির কাছাকাছি প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত কাজ সারতে মন্ত্রী রতনলাল নাথকে দেখা গেল দু-চাকার বাই-সাইকেলে। এখানেই শেষ নয়, দুপুরের দিকে রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক ভবন তথা মহাকরণে যাওয়ার জন্য তিনি কোনো বিলাসবহুল সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেননি। পরিবর্তে তিনি একটি সাধারণ ইলেকট্রিক অটোতে (ই-অটো) চড়ে মহাকরণে পৌঁছান। মন্ত্রীর এই সাদামাটা এবং পরিবেশবান্ধব রূপ দেখে তাজ্জব বনে গেছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে মহাকরণের কর্মীরাও।
এই বিষয়ে মন্ত্রী রতনলাল নাথ স্পষ্ট জানান, এখন থেকে তিনি এই সাশ্রয়ী পদ্ধতিই অবলম্বন করতে চলেছেন। তিনি বলেন, “যদি কোনো প্রশাসনিক কাজে দূরবর্তী কোনো এলাকায় যেতে হয়, তবেই আমি কেবল একটিমাত্র গাড়ি নেব। অন্যথায় আগরতলা শহরের ভেতরে যাতায়াত করার জন্য আমি সরকারের কাছে ইলেকট্রিক যানবাহন বা ই-ভেহিকেল চাইব। আর যতদিন না তা পাওয়া যাচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত আমি এই বাই-সাইকেল এবং ইলেকট্রিক অটোর ওপরেই ভরসা রাখব।”
জ্বালানি সাশ্রয়ের এই মহৎ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীরা নানা ধরনের প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন। যেমন মহারাষ্ট্রের উপ-मुख्यमंत्री দেবেন্দ্র ফড়নবীশ ট্রাফিক নিয়ম মেনে মাথায় হেলমেট পরে সাধারণ বাইকে চড়ে বিধান ভবনে গিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন। ঠিক একইভাবে, পশ্চিমবঙ্গের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও জ্বালানি সাশ্রয় নিয়ে এক আবেগঘন ও জরুরি বার্তা দিয়েছেন। উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জ্বালানির সংকটটা আজ অনেক বড় আকার ধারণ করেছে। মানুষের কাছে এই বার্তাটা পৌঁছানো খুব দরকার। যাঁদের বাড়িতে দুটো, তিনটে বা একাধিক গাড়ি রয়েছে, তাঁরা সপ্তাহে অন্তত একটা দিন নিজেদের গাড়ি গ্যারেজে রেখে বাসে যাতায়াত করুন কিংবা মেট্রোয় যাতায়াত করুন। এতে আমাদের মূল্যবান তেল, পেট্রোল ও ডিজেল একদিনের জন্য হলেও কম খরচ হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের সবার কাছে আবেদন করেছেন যাতে সিএনজি চালিত যানবাহন বেশি ব্যবহার করা হয় এবং ভিআইপি কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমানো হয়। এটা সত্যিই আমাদের গভীরভাবে ভাবার বিষয়। আজ যদি পৃথিবীটাই ধ্বংসের মুখে চলে যায়, তবে আমাদের বাড়ি, গাড়ি, উড়ালপুল, বিশ্ববিদ্যালয় বা ব্যবসা—কোনো কিছুই আর অবশিষ্ট থাকবে না। আমরা হয়তো একসময় চলে যাব, কিন্তু আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বা আমাদের সন্তানরা এই পৃথিবীতে ঠিকভাবে বাঁচতে পারবে তো? সেই চিন্তাটা আমাদের আজই করতে হবে।”
মন্ত্রীদের এই ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি খোদ কেন্দ্রীয় স্তরেও শুরু হয়েছে বড়সড় পরিবর্তন। প্রধানমন্ত্রীর বার্তার পরেই স্বয়ং নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা এক ধাক্কায় বহুলাংশে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ে থাকা গাড়ির সংখ্যা অন্তত ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ে থাকা প্রচলিত জ্বালানির গাড়িগুলো ধাপে ধাপে সরিয়ে সেখানে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিন গাড়ি বা ই-কার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একইভাবে অমিত শাহের কনভয় থেকেও বেশ কিছু গাড়ি বাদ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় এই নির্দেশিকা জারির পর রাজ্যেও তার প্রতিফলন দেখা গেছে। শুভেন্দু অধিকারীও নিজের কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে নজির গড়েছেন। রাজ্য ও কেন্দ্রের এই সম্মিলিত প্রয়াস সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।





