প্রতি মাসে দিতে হবে ১০ হাজার টাকা, নাহলে যা ইচ্ছে তাই করবে! স্ত্রীকে খুনের পর স্বীকারোক্তি…

বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত স্বামী বিশ্বজিৎ মণ্ডল স্ত্রীকে খুনের কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, একাধিক পুরুষের সঙ্গে স্ত্রীর বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক এবং সেই সংক্রান্ত ছবি দেখেই বিশ্বজিৎ রাগের মাথায় এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন।

পুলিশের জেরায় ধৃত বিশ্বজিৎ মণ্ডল জানিয়েছেন যে, তাঁর স্ত্রী ইতিকার একাধিক পুরুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি তিনি দেখতে পেয়েছিলেন। এই বিষয়ে স্ত্রী-কে জিজ্ঞেস করলেই তাঁদের মধ্যে বারবার ঝামেলা হতো। বিশ্বজিতের বক্তব্য অনুযায়ী, ইতিকা নাকি তাঁকে জানান যে তাঁর প্রচুর টাকার প্রয়োজন এবং প্রতি মাসে তাঁকে ১০ হাজার টাকা দিতে হবে। যদি বিশ্বজিৎ সেই টাকা না দেন, তাহলে ইতিকা তাঁর ইচ্ছামতো চলবেন।

সোমবার দুপুরে নিউটাউনের গৌরাঙ্গ নগর সাহা মার্কেটের একটি গেস্ট হাউজে তাঁরা ওঠেন। সেখানে ফের এই বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। উত্তপ্ত বিতর্কের এক পর্যায়ে বিশ্বজিৎ রাগের মাথায় ইতিকার গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে ধরে বলেন, “মেরে দেবো…”

বেল্টের ফাঁসে শ্বাসরোধ হয়ে ঘটনাস্থলেই ইতিকার মৃত্যু হয়।

স্ত্রীকে খুনের পর বিশ্বজিৎ নিজেই ১০০ নম্বরে ডায়াল করে পুলিশকে খবর দেন। এরপর তিনি নিজের মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও রেকর্ড করেন, যেখানে তিনি কেন ইতিকাকে খুন করেছেন, তার কারণ বিস্তারিতভাবে জানান।

খবর পেয়ে নিউটাউন থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। গেস্ট হাউজের তিনতলার একটি ঘর থেকে গৃহবধূ ইতিকার দেহ উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, বিশ্বজিতের বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুরের হোসেনপুরে।

আজ ধৃতকে বারাসত আদালতে পেশ করা হবে এবং পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে বলে জানা গেছে।