প্রতি বছর একই ছবি! মহানন্দার ‘তাণ্ডবে’ সব হারাচ্ছে পোড়া ঝাড়, কেন হয় না স্থায়ী সমাধান? ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

শনিবার গভীর রাতে প্রবল বর্ষণ উত্তরবঙ্গের বহু মানুষের জন্য চরম আতঙ্ক নিয়ে এল। মহানন্দা সংলগ্ন পোড়া ঝাড় এলাকায় রাতের নীরবতা ভেঙে গেল জলের ভয়ঙ্কর শব্দে। রাতভর টানা বৃষ্টির জেরে নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত বাঁধ ধরে রাখতে পারেনি সেই জলস্রোত।
রাত তিনটা নাগাদ হঠাৎই একের পর এক বাড়িতে জল ঢুকতে শুরু করে। দিশেহারা মানুষজন মুহূর্তের মধ্যে ছোট বাচ্চা ও বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে নিরাপদ জায়গা খুঁজতে শুরু করেন। কিন্তু কোথাও আর নিরাপদ নয়!
সকাল সাড়ে ৪টায় ঘটল চরম বিপর্যয়
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল সাড়ে চারটার দিকে মহানন্দার একাংশের বাঁধ ভেঙে যায়। বাঁধ ভাঙার পর আর থামার উপায় ছিল না।
বিপর্যয়: চোখের সামনে বাড়িঘর, দোকান, মাঠ – সব জলের তলায় তলিয়ে যেতে থাকে।
ধ্বংসের গতি: স্থানীয়দের দাবি, মাত্র আধঘণ্টার মধ্যেই পোড়া ঝাড়ের বেশিরভাগ অংশ প্লাবিত হয়েছে। অনেক জায়গায় জলের গভীরতা এখন তিন থেকে চার ফুট ছুঁয়েছে।
উদ্ধার বাধা: জলস্রোতের তীব্রতা এতটাই বেশি যে, প্রশাসনের তরফে উদ্ধারকাজ শুরু হলেও, উদ্ধারকারী নৌকাও অনেক জায়গায় এগোতে পারছে না।
নিরাপত্তার স্বার্থে প্লাবিত এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। সকাল থেকে চলছে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম। জেলা প্রশাসনের দল এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে।
স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ
মহানন্দার এই হঠাৎ তাণ্ডবে সব হারিয়েছেন বহু বাসিন্দা। কারও ঘরবাড়ি, কারও বা বছরের পরিশ্রমের ফসল জলের নিচে। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাঁদের অভিযোগ, বর্ষা এলেই প্রতি বছর একই ছবি দেখা যায়, অথচ মহানন্দার এই ভাঙন রুখতে স্থায়ী সমাধান হয় না। প্রকৃতির সামনে মানুষের অসহায়তা আরেকবার স্পষ্ট হয়ে উঠল এই ঘটনায়।