বিশ্বমঞ্চে এবার বাঁকুড়ার মেচা! জিআই স্বীকৃতিতে উচ্ছ্বসিত বেলিয়াতোড়, আশায় মিষ্টি ব্যবসায়ীরা

চন্দননগরের জলভরা বা জনাইয়ের মনোহরার পর এবার বাঙালির মিষ্টির ভাণ্ডারে এক গর্বের সংযোজন। দীর্ঘদিন প্রচেষ্টার পর অবশেষে জিআই (GI) বা ভৌগোলিক নির্দেশক তকমা পেল বাঁকুড়ার বেলিয়াতোড়ের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি—‘মেচা সন্দেশ’। এই খবরে জেলাজুড়ে মিষ্টি ব্যবসায়ী থেকে ভোজনরসিকদের মধ্যে খুশির জোয়ার বইছে।

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন মেচা সন্দেশের ইতিহাস বেশ পুরনো। প্রচলিত মত অনুযায়ী, বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজাদের আমল থেকেই বেলিয়াতোড়ে এই বিশেষ মিষ্টির জনপ্রিয়তা। আবার অনেকের মতে, বর্ষাকালে গুড়ের লাড্ডু নষ্ট হয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে গিরিশচন্দ্র মোদক নামে এক মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারক প্রথম এই বিশেষ ধরনের মিষ্টি তৈরি করেন, যা পরে ‘বেলিয়াতোড়ের মেচা’ নামে খ্যাতি পায়।

কেন মেচা সন্দেশ অনন্য?

  • উপকরণ: ছোলার ডালের বেসন, ঘি, খোয়া ক্ষীর, চিনি এবং ছোট এলাচের নিখুঁত সংমিশ্রণে তৈরি হয় এই মিষ্টি।

  • সংরক্ষণ ক্ষমতা: মেচার বিশেষ গুণ হলো, সাধারণ তাপমাত্রায় এটি প্রায় এক মাস পর্যন্ত স্বাদে-গন্ধে অবিকল থাকে। এই দীর্ঘস্থায়ী গুণটিই একে দেশ-বিদেশে রপ্তানির জন্য আদর্শ করে তুলেছে।

ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের পর জিআই স্বীকৃতি মেলায় ব্যবসায়ীরা নতুন স্বপ্ন দেখছেন। ব্যবসায়ী লালমোহন রায় জানান, “এই স্বীকৃতির ফলে সরকারের খাতায় আমাদের পণ্যের নাম নথিভুক্ত হলো। এখন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও অনুদান পেলে আমাদের মতো ছোট ব্যবসায়ীদের যেমন সুবিধা হবে, তেমনি বিশ্ববাজারে মেচার প্রচার বাড়ানোও সহজ হবে।”

ব্যবসায়ীদের মতে, এই শিল্পে নতুন প্রজন্মের কারিগররা বর্তমানে কম আসছেন। তবে বিদেশে রপ্তানির সুযোগ বাড়লে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পে তরুণ প্রজন্ম ফের আগ্রহী হবে এবং প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে চকোলেট, আম ও কাঁঠালের মতো নিত্যনতুন ফ্লেভারেও মেচা তৈরি করে ভোজনরসিকদের মন জয় করছেন বাঁকুড়ার কারিগররা। জিআই তকমা পাওয়ার পর এবার বেলিয়াতোড়ের এই গর্ব আন্তর্জাতিক বাজারে কতটা দাপট দেখাতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।