সোমবার সকাল হতেই দেশজুড়ে ফের একবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল। গত ১০ দিনের মধ্যে এটি চতুর্থবারের মতো মূল্যবৃদ্ধি, যা সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তোলার জন্য যথেষ্ট। ক্রমবর্ধমান এই মুদ্রাস্ফীতির জেরে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণের ধার বাড়িয়েছেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
রাহুলের নিশানায় প্রধানমন্ত্রী:
নির্বাচন শেষ হতেই সরকার সাধারণ মানুষের পকেট কাটতে শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন রাহুল গান্ধী। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ‘মুদ্রাস্ফীতির কারিগর’ বলে কটাক্ষ করে লিখেছেন, “মোদী সরকার গোপনে কিস্তিতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের সঞ্চয় লুঠ করছে।” রাহুলের দাবি, তিনি বহুদিন ধরেই আসন্ন অর্থনৈতিক সংকটের কথা সতর্ক করে আসছেন, কিন্তু সরকার নির্বাচনের নেশায় মত্ত ছিল। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া আর বাকি সময় জনগণের ওপর বোঝা চাপানোই মোদী সরকারের একমাত্র লক্ষ্য।
খাড়গের পরিসংখ্যান ও আক্রমণ:
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ১০ দিনে চারবার জ্বালানির দাম বাড়িয়ে সরকার সাধারণ মানুষের পকেটে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। খাড়গে ইউপিএ ও এনডিএ আমলের তুলনা টেনে পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১৭৫ শতাংশ বাড়লেও পেট্রোল-ডিজেলের দামে সেই তুলনায় আকাশছোঁয়া বৃদ্ধি হয়নি। অথচ মোদী সরকারের আমলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম স্থিতিশীল থাকা সত্ত্বেও পেট্রোলের দাম ৭১.৪১ টাকা থেকে বেড়ে ১০২.১২ টাকায় পৌঁছেছে, যা ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি। ডিজেলের দামের ক্ষেত্রেও একই ছবি, ৫৬.৭১ টাকা থেকে তা ৯৫.২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ সরকারের এই মূল্যবৃদ্ধি ‘লুটপাট’ ছাড়া আর কিছুই নয়।
তেল কোম্পানির নয়া রেট:
সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ফের ২.৬০ টাকার আশেপাশে বাড়িয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, দিল্লিতে পেট্রোল ১০২.১২ টাকা এবং ডিজেল ৯৫.২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহে জ্বালানির দাম লিটার প্রতি ৭ টাকারও বেশি বেড়েছে। গত ১৫ মে ৩ টাকা, ১৯ মে ৯০ পয়সা এবং ২৩ মে ৮৭ পয়সা বৃদ্ধির পর এই চতুর্থ দফা মূল্যবৃদ্ধিতে হিমশিম খাচ্ছে মধ্যবিত্ত।
দেশজুড়ে প্রভাব:
প্রধান মহানগরগুলির অবস্থাও ভয়াবহ। কলকাতায় পেট্রোলের দাম ১১৩.৫১ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৯৯.৮২ টাকায় ঠেকেছে। মুম্বাইতে পেট্রোল ১১১.২১ টাকা এবং চেন্নাইতে ১০৭.৭৭ টাকায় পৌঁছেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পরিবহণ খরচ এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জেরে হু হু করে বাড়ছে। বাজারের এই অগ্নিমূল্য পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ এখন দিশেহারা। মূল্যবৃদ্ধির এই চক্র থেকে রেহাই কবে মিলবে, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।





