উচ্ছেদ, পুনর্বাসন এবং উন্নয়ন—ভারতের রাজনীতিতে এই তিনটি শব্দের সমীকরণ মেলানো সবসময়ই বড় চ্যালেঞ্জ। অযোধ্যায় রামমন্দির, বারাণসীতে কাশী বিশ্বনাথ এবং উজ্জয়িনীর মহাকাল করিডর নির্মাণের সময় মোদী সরকার সফল হলেও, এবার নিজের রাজ্য গুজরাটেই সোমনাথ মন্দির করিডর নিয়ে প্রবল বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীকে। প্রভাস পাতান এলাকায় সোমনাথ মন্দিরের আধুনিকীকরণের জন্য শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযান ঘিরেই এখন সরগরম মোদীর খাসতালুক।
প্রশাসন সূত্রে খবর, ঐতিহাসিক সোমনাথ মন্দিরের আশেপাশে থাকা ৩৮৪টি বাড়ি এবং দোকান উচ্ছেদ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও গুজরাট সরকার মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি, কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা এবং ব্যবসায়ীরা এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ। এই বিবাদ এখন আর নিছক বিক্ষোভের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; উচ্ছেদ রুখতে দলে দলে মানুষ আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন। ২০২৭-এর গুজরাট বিধানসভা ভোটের আগে এই গণ-আক্রোশ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিশেষ করে ‘ব্র্যান্ড মোদী’র ইমেজে এই ঘটনা বড় ধাক্কা দিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
উচ্ছেদের তালিকায় থাকা সাধারণ মানুষের আর্তনাদ এখন প্রভাস পাতানের অলিগলিতে। সমুদ্রের ধারে এক দশকের পুরনো ফুচকা ব্যবসায়ী রাজু প্যাটেলের প্রশ্ন, “নতুন করিডরে কি আমায় দোকান করতে দেওয়া হবে? আমার পেট চলবে কী করে?” একই সুর শোনা গেল বংশপরম্পরায় মন্দিরের সেবায় যুক্ত থাকা জিতেন যোশীর গলায়। তিনি বলেন, “আমরা তো বিজেপির সমর্থক, তবে কেন আমাদেরই উচ্ছেদ করা হচ্ছে?” ৫৫ বছর বয়সী হেমন্তী মেহতার আবেগঘন আবেদন, “বড় ভাই নরেন্দ্র মোদীজির কাছে অনুরোধ, আমাদের স্বাভিমানে আঘাত করবেন না।”
রবিবার সোমনাথ মন্দিরে বিশেষ পুজো এবং শৌর্য রথ পরিক্রমায় অংশ নিলেও, করিডর ও উচ্ছেদ নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি প্রধানমন্ত্রী মোদী। তাঁর এই নীরবতা স্থানীয়দের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হাত থেকে সোমনাথ মন্দিরকে বারবার রক্ষা করার যে ইতিহাস মোদী মনে করিয়ে দিয়েছেন, সেই সোমনাথের কোলেই এখন নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছেন ভূমিপুত্ররা।





