“পুলিশ সব জানে, একটু অপেক্ষা করুন!” মর্গে পৌঁছে বিস্ফোরক শুভেন্দু, চন্দ্রনাথ খুনে বড় ধামাকা?

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক তথা প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মী চন্দ্রনাথ রথকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি এখন আগ্নেয়গিরির ওপর দাঁড়িয়ে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বারাসাত মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পৌঁছান শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তখন কড়া পুলিশি নিরাপত্তা। প্রিয় সহযোগীর নিথর দেহের সামনে দাঁড়িয়ে শোকাতুর শুভেন্দু স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, “ইয়ং ছেলে, প্রাক্তন বায়ুসেনা, দেশপ্রেমী ছেলে… তাকে যে নৃশংস ভাবে খুন করা হয়েছে, তার বিচার হবেই।”

তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে এদিন শুভেন্দুর গলায় অন্য সুর শোনা গিয়েছে। রাজনৈতিক তিক্ততা সরিয়ে তিনি পুলিশের ওপর আস্থা রাখার বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “পুলিশ সঠিক পথেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ডিবি এবং ডিজি সাহেবের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়া গিয়েছে এবং কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে। পুলিশ চাইলে সব পারে, শুধু তাদের কাজ করতে দিতে হয়।” শুভেন্দুর এই ইতিবাচক মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে, কৌস্তভ বাগচীর মতো নেতারা এই খুনের নেপথ্যে সরাসরি তৃণমূলের যোগ দেখলেও শুভেন্দু জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে তৃণমূলের প্রাসঙ্গিকতা নেই, পুলিশই সব সত্য খোলসা করবে।

তদন্তকারীদের হাতে আসা নতুন তথ্য অনুযায়ী, চন্দ্রনাথকে স্রেফ ভয় দেখানো নয়, বরং নিশ্চিতভাবে খতম করার উদ্দেশ্যেই এসেছিল আততায়ীরা। ১০ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে। ব্যবহার করা হয়েছিল অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র। গোয়েন্দারা নিশ্চিত যে, বেশ কয়েকদিন ধরে রেইকি করার পরেই এই অপারেশন চালানো হয়েছে। স্থানীয় তিন দুষ্কৃতীকে ইতিমধ্যেই আটক করে জেরা করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, একটি মোটরসাইকেল যশোর রোডের পেয়াপাবাগান থেকে চন্দ্রনাথের গাড়িকে অনুসরণ করছিল এবং তাদের সঙ্গে একটি নিসান গাড়ির যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে চন্দ্রনাথের দেহ প্রথমে মধ্যমগ্রামের বাড়িতে এবং পরে তাঁর পৈতৃক ভিটে চণ্ডীপুরে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে শুভেন্দু অধিকারী নিজে উপস্থিত থেকে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন।