‘দখলদারি বরদাস্ত নয়’, কামারহাটি কাণ্ডে লকেট চট্টোপাধ্যায়কে কড়া বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের

কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যানের আসনে লকেট চট্টোপাধ্যায়ের দাদা সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের বসা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গে বিতর্ক। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলের অন্দরে তৈরি হওয়া এই ‘দখলদারি’র রাজনীতিকে তিনি কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
কী ঘটেছিল কামারহাটিতে? দীর্ঘদিন তৃণমূলের দখলে থাকা কামারহাটি পুরসভায় সমীকরণ বদলেছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলে। পুরপ্রধান গোপাল সাহা ও বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরের ইস্তফার পর গত শুক্রবার ২৫ জন কাউন্সিলরের বৈঠক হয়। সেখানে সকলের সম্মতিতে নতুন পুরপ্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়। তিনি নির্দল কাউন্সিলর হলেও বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়ের দাদা হওয়ায় তাঁর এই মনোনয়ন নিয়ে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছে।
শমীক ভট্টাচার্যের কড়া হুঁশিয়ারি: সোমবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মুরলিধর সেন লেনে বিজেপির রাজ্য সদর দফতরে উপস্থিত হন শমীক ভট্টাচার্য। সেখানেই দলের সাম্প্রতিক এই কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি। শমীক বলেন, “যে কেউ আসবে, আর নিজেকে কাউন্সিলর বানিয়ে ফেলবে কলকাতা কর্পোরেশন, বরানগর, কামারহাটি কিংবা বিধাননগরে, আর পার্টি চুপচাপ মেনে নেবে? এটা হতে দেওয়া যাবে না।”
বিকেল ৪টের মধ্যে রিপোর্ট তলব: পুরসভার এই বিতর্কিত ঘটনায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। তিনি জানিয়েছেন, এই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তীকে। আজ সোমবার বিকেল ৪টের মধ্যেই এই রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কামারহাটির এই পুরপ্রধান নির্বাচন ও দলের অন্দরের এই সংঘাত এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।