খামেনেইয়ের শেষযাত্রায় অভূতপূর্ব জনজোয়ার, ট্রাম্পের ‘অবিশ্বাস’ নিয়ে তোলপাড় বিশ্ব!

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কার্যত উত্তাল ইরান। চার মাস আগে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত এই নেতার শেষযাত্রায় যেন মানুষের ঢল নেমেছে। তেহরানের রাস্তা থেকে শুরু করে বাগদাদ—সর্বত্রই এখন শোকের আবহ।

 খামেনেইকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে কাতারে কাতারে মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। মহিলা, বৃদ্ধ থেকে শুরু করে কিশোর-কিশোরী—সবাইকে বুক চাপড়ে কাঁদতে দেখা গেছে। শোকের পাশাপাশি অনেকের কণ্ঠে ছিল মার্কিন বিরোধী স্লোগান। রবিবারে এই বিশেষ প্রার্থনাসভায় খামেনেইয়ের তিন পুত্র মোস্তফা, মেসাম ও মাসুদ উপস্থিত থাকলেও, সকলের নজর ছিল মোজতবার অনুপস্থিতির দিকে।

 শোকের এই দিনে নজর কেড়েছেন ব্রিটেন থেকে আসা এক ইরানি মহিলা মজিয়া। আমেরিকার নাম না করে তিনি বলেন, “৪,০০০ বছরের পুরনো সভ্যতাকে কেউ ধ্বংস করতে পারবে না। যারা এই চেষ্টা করছে, তারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি ডেকে আনছে।” উপস্থিত জনতার একাংশ খামেনেই হত্যার বদলা নেওয়ার দাবিতেও সোচ্চার হয়েছেন।

ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য: খামেনেইয়ের শেষযাত্রায় উপচে পড়া এই ভিড় দেখে অবাক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লিখেছেন, “আমি অত্যন্ত অবাক। আমি জানতাম মানুষ ওকে ঘৃণা করে। যদিও এই কান্না লোক দেখানোও হতে পারে।” ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উস্কে দিয়েছে।

শেষকৃত্যের সূচি: বাগদাদ শহর এখন সম্পূর্ণ স্তব্ধ। আজ দেহ রাখা থাকবে তেহরানে, এরপর মঙ্গলবার তা নেওয়া হবে কুমে। বুধবার ইরাকের বিভিন্ন শহরে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন শেষে বৃহস্পতিবার খামেনেইয়ের নিজের শহর মাশাদে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে। সেখানেই পরিবারের নিহত সদস্যদের পাশে তাঁকে সমাধিস্থ করা হবে।