মস্কোর রেড স্কোয়ারে ১০ মে আয়োজিত বিজয় দিবসের মঞ্চ থেকে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দীর্ঘ কয়েক বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর এই প্রথম রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইউক্রেন যুদ্ধ সমাপ্তির এক স্পষ্ট ও ইতিবাচক বার্তা এল। পুতিনের মতে, এই সংঘাত এখন তার অন্তিম লগ্নে পৌঁছেছে। তাঁর এই ঘোষণায় বিশ্ব রাজনীতিতে যেমন স্বস্তি ফিরেছে, তেমনই তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। তবে এই শান্তির পথ প্রশস্ত হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভাবনীয় মধ্যস্থতায়।
আন্তর্জাতিক মহলে এখন সবথেকে বড় খবর হলো রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে তিন দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি বা ‘সিজফায়ার’। ৯, ১০ এবং ১১ মে—এই তিন দিন দুই পক্ষই অস্ত্র সংবরণ করতে রাজি হয়েছে। গত কয়েক বছরে এমন কূটনৈতিক সাফল্য আগে কখনও দেখা যায়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের সক্রিয় উদ্যোগে এই শান্তি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় হোয়াইট হাউসের প্রভাবও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। মস্কোর বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজের আবহে এই যুদ্ধবিরতি বিশ্ব অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পুতিনের বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়া তার লক্ষ্য পূরণের পথে অনেকটাই অগ্রসর এবং এখন শান্তি আলোচনার মাধ্যমেই স্থায়ী সমাধান সম্ভব। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও সরকারি দীর্ঘমেয়াদী বিবৃতি না আসলেও, তিন দিনের এই যুদ্ধবিরতিকে এক বড় জয় হিসেবেই দেখছে বিশ্ববাসী। ট্রাম্পের এই মধ্যস্থতা কেবল আমেরিকার কূটনৈতিক জয় নয়, বরং এটি ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার কঠোর অবস্থান নরম হওয়ার একটি প্রামাণ্য দলিল হয়ে রইল।
এখন প্রশ্ন একটাই, ১১ মে এই সিজফায়ার শেষ হওয়ার পর কী ঘটবে? পুতিন কি আলোচনার টেবিলে বসবেন, নাকি এই বিরতি কেবল পরবর্তী বড় কোনও ঝড়ের পূর্বাভাস? আপাতত মস্কোর বিজয় দিবস এবং ট্রাম্পের ‘শান্তি মিশন’ নিয়ে উত্তাল সারা বিশ্বের সংবাদমাধ্যম।





