পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে যাওয়ার পর এবার পরিবর্তনের হাওয়া গঙ্গার ধারের তাবুগুলোতেও। ব্রিগেডের ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পর নবান্নে যখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের দফতর সামলাচ্ছেন, তখন ময়দান জুড়ে শুরু হয়েছে নতুন এক সমীকরণ তৈরির লড়াই। গত ১৫ বছর তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা ক্রীড়াক্ষেত্র এবার ‘গৈরিক’ ছোঁয়ায় বদলে যাওয়ার অপেক্ষায়।
ময়দানের অলিখিত নিয়ম অনুযায়ী, যে দল ক্ষমতায় থাকে, ক্লাব ও ক্রীড়া সংস্থাগুলোর পাল্লা সেদিকেই ভারী হয়। গত রবিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ইস্টবেঙ্গল, মহামেডান স্পোর্টিং এবং বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতি সেই ইঙ্গিতই দিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে রাজ্য ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা আইএফএ-র অন্দরে এখন তুমুল আলোড়ন। সদ্য প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের আমলে আইএফএ দু’হাত ভরে আর্থিক অনুদান পেয়েছে। কন্যাশ্রী কাপ থেকে শুরু করে জেলাস্তরের টুর্নামেন্ট— সব জায়গাতেই ছিল সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। আইএফএ সভাপতি তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাদা অজিত বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন এই সাহায্যের মূল চাবিকাঠি। কিন্তু পালবদলের পর অজিতবাবুর ছায়ামুক্ত হয়ে আইএফএ কীভাবে চলবে, তা নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে।
আইএফএ সচিব অবশ্য ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর মতে, কেন্দ্রীয় সরকার খেলাধুলোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত উদার, তাই ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রজেক্টের মাধ্যমে বাংলার ফুটবল আরও সমৃদ্ধ হবে। তবে বিজেপির রণকৌশল অনুযায়ী ‘কন্যাশ্রী কাপ’-এর মতো টুর্নামেন্টের নাম যে অচিরেই বদলে যাবে, তা বলাই বাহুল্য। আইএফএ কর্তারাও নাম বদলে বিশেষ আপত্তি করবেন না বলেই খবর। সামনেই আইএফএ নির্বাচন, সেখানে শাসকদলের ঘনিষ্ঠ কাউকে দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
লাল-হলুদ শিবিরেও পরিবর্তনের আঁচ স্পষ্ট। ইস্টবেঙ্গলের প্রেসিডেন্ট মুরারি মোহন লোহিয়া আগে থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারের ঘনিষ্ঠ। সঙ্গে নতুন বিধানসভার স্পিকার হতে চলা তাপস রায়ের ইস্টবেঙ্গল প্রীতিও সুবিদিত। ফলে ইস্টবেঙ্গল তাঁবুতে বিজেপি ঘনিষ্ঠ কর্তাদের দাপট বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল। অন্যদিকে, মোহনবাগান শিবিরে কুণাল ঘোষ, স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়দের হাত থেকে ক্ষমতা সরিয়ে বিজেপি ঘনিষ্ঠদের আনার তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে। মোহনবাগান ভাইস প্রেসিডেন্ট সৌমিক বসুর সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সখ্য বাগান কর্তাদের স্বস্তি দিচ্ছে।
ক্রিকেট মহল বা সিএবি-তে বিশেষ রদবদলের সম্ভাবনা কম, কারণ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে সব দলেরই সুসম্পর্ক রয়েছে। তবে বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন এবং হকি বেঙ্গলে বড়সড় রদবদল আসন্ন। হকি বেঙ্গলের বর্তমান সভাপতি সুজিত বসুর চেয়ার টলমল করছে, কারণ এবার বাংলা একজন অলিম্পিয়ান বিধায়ক ভরত ছেত্রীকে পেয়েছে। অলিম্পিয়ান বিধায়ক নিজের হাতে হকির ব্যাটন তুলে নিতে পারেন বলে জল্পনা। জেলার ক্রীড়া সংস্থাগুলোও এখন নতুন সরকারের সঙ্গে তাল মেলাতে ব্যস্ত। মোটের ওপর, নবান্নের পর এবার কলকাতা ময়দানও ‘স্টান্স’ বদল করে গেরুয়া পিচে ব্যাট করার জন্য প্রস্তুত।





