“ভয়ংকর হান্টাভাইরাস!”-৩ জনের মৃত্যুতে কাঁপছে বিশ্ব, ভারতেও কি আছড়ে পড়বে মহামারি?

করোনা মহামারির স্মৃতি এখনও টাটকা। তার মধ্যেই নতুন এক ভাইরাসের আতঙ্কে কাঁপছে বিশ্ব। নেদারল্যান্ডসের জাহাজ ‘এমভি হন্ডিয়াস’-এ হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসকমহলে। ওই জাহাজে থাকা অন্তত ৮ জনের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে, যার মধ্যে ৫ জনের সংক্রমণের খবর নিশ্চিত। উদ্বেগের বিষয় হলো, ইতিমধ্যেই ৩ জন আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

জাহাজে সংক্রমণ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নজরদারি এমভি হন্ডিয়াস জাহাজটি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, তারা বিশেষত ‘অ্যান্ডিস’ (Andes) নামক একটি স্ট্রেনের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। যদিও হু (WHO) আশ্বস্ত করেছে যে, ভারতে এখনই এই ভাইরাস নিয়ে কোনও জরুরি অবস্থা বা মহামারির পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।

কী এই হান্টাভাইরাস? হান্টাভাইরাস একটি ‘জুনোটিক’ ভাইরাস, যা মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর শরীর থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। সাধারণত ইঁদুরের মল, মূত্র বা লালার সংস্পর্শে এলে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে অ্যান্ডিস স্ট্রেনটি কিছুটা আলাদা, কারণ এটি অত্যন্ত সীমিত পরিসরে হলেও মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে।

সংক্রমণের ধরণ ও ভয়াবহতা হান্টাভাইরাস মূলত দু’ধরনের গুরুতর শারীরিক সমস্যা তৈরি করে:

  • HCPS: এটি মূলত আমেরিকায় দেখা যায়, যা অত্যন্ত গুরুতর শ্বাসকষ্টজনিত রোগ।

  • HFRS: এশিয়া ও ইউরোপে এর প্রকোপ বেশি। এই সংক্রমণে সরাসরি মানুষের কিডনি আক্রান্ত হয়।

লক্ষণ ও উপসর্গসমূহ প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণ জ্বরের মতো মনে হলেও এটি দ্রুত প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে। প্রধান লক্ষণগুলি হলো:

  • তীব্র জ্বর ও ক্লান্তি।

  • পেশিতে অসহ্য যন্ত্রণা।

  • পরবর্তী ধাপে শুকনো কাশি ও তীব্র শ্বাসকষ্ট।

  • শ্বাসযন্ত্রের জটিলতা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া।

সতর্কতাই একমাত্র পথ চিকিৎসকদের মতে, মানুষ থেকে মানুষে এই সংক্রমণ অত্যন্ত বিরল হলেও সাবধান থাকা জরুরি। বিশেষ করে ঘরবাড়ি বা কর্মক্ষেত্রে ইঁদুরের উপদ্রব কমানো এবং তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলাই হলো প্রধান রক্ষা কবচ। দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং সঠিক নজরদারিই পারে বড়সড় বিপর্যয় রুখতে।

আপাতত নেদারল্যান্ডসের ওই জাহাজটিকে নিয়ে কড়া স্বাস্থ্যবিধি জারি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকাই এই মুহূর্তে কাম্য।

বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। কোনও শারীরিক অসুস্থতা বা উপসর্গের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।