পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ইজরায়েল-ইরান সংঘর্ষের আঁচে এবার সরাসরি উত্তপ্ত হয়ে উঠল ভারতের রাজনীতি। রবিবার হায়দরাবাদের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া এক বিশেষ বার্তাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্য স্তব্ধ হওয়ার আশঙ্কায় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ‘ত্যাগ’ স্বীকারের আহ্বান জানান। আর এই আহ্বানকেই সরকারের ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে দেগে দিয়ে আক্রমণ শানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘাত চরম আকার নেওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী। এই পরিস্থিতিতে রবিবার মোদী দেশবাসীকে অনুরোধ করেন, বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডার বাঁচাতে আপাতত এক বছরের জন্য সোনা কেনা স্থগিত রাখতে। পাশাপাশি, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর এড়িয়ে চলা, পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবহার কমানো এবং বড় শহরগুলোতে ফের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার সংস্কৃতি চালুর পরামর্শ দেন তিনি। গাড়ি ব্যবহারের বদলে গণপরিবহন বা কারপুলের ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর এই ‘উপদেশ’ কানে আসতেই বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। নিজের এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “মোদীজি জনগণের কাছে ত্যাগের দাবি জানাচ্ছেন। মানুষকে বলছেন তেল কম পোড়াতে, সোনা না কিনতে, বিদেশে না যেতে। এগুলি স্রেফ উপদেশ নয়, ১২ বছরের অপশাসনের ফলে তৈরি হওয়া চরম ব্যর্থতার প্রমাণ।” রাহুল আরও যোগ করেন, সরকার নিজের দায়বদ্ধতা এড়াতে বারবার সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। মোদীকে ‘আপোশকারী প্রধানমন্ত্রী’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
বিতর্কে ঘি ঢেলেছেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল এবং বর্ষীয়ান নেতা পি চিদাম্বরম। বেণুগোপালের মতে, যুদ্ধের এতদিন পরেও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে না পারা সরকারের ‘দিশাহীনতা’র পরিচয়। অন্যদিকে, চিদাম্বরম দাবি তুলেছেন, দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক পরিস্থিতি জানতে অবিলম্বে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হোক।
উল্লেখ্য, ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের কাছে মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বাধা পাওয়ায় ভারতের তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিতে টান পড়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর সহযোগিতা চাইলেও, বিরোধীরা একে সরকারের অর্থনৈতিক দেউলিয়া দশা হিসেবেই দেখছেন। মোদী সরকারের এই আর্জি কি শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলবে, নাকি বিরোধীদের চাপে সরকার পিছু হটবে—এখন সেটাই দেখার।





