পুজো শেষে বাংলার কপালে চিন্তার ভাঁজ! একাদশী-দ্বাদশীতে রাজ্যজুড়ে ‘অতি ভারী’ বৃষ্টির পূর্বাভাস, জারি দুর্যোগের সতর্কতা

দুর্গাপুজোর আনন্দ শেষ হওয়ার পরই বাংলার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলল প্রকৃতি। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আজ, শুক্রবার (৩ অক্টোবর) একাদশী-দ্বাদশীতে রাজ্যের উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গজুড়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রপাতের আশঙ্কাও রয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায় দুর্যোগ
আজ দিনভর দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে:
অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা (০৭-২০ সেমি): বীরভূম জেলার এক বা দুটি স্থানে।
ভারী বৃষ্টির সতর্কতা (০৭-১১ সেমি): পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান এবং বাঁকুড়া জেলা।
কলকাতার পূর্বাভাস: আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাত: পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় ৪০-৫০ কিমি প্রতি ঘণ্টা বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বাকি জেলাগুলিতেও বজ্রপাত সহ ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গতকাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কলকাতায় ২৯ মিলিমিটার এবং রাত থেকে সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত ২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি ও ভূমিধসের আশঙ্কা
উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় বাড়বে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সেখানে ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে।
ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি (০৭-২০ সেমি): দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলার এক বা দুটি জায়গায়।
ভারী বৃষ্টি (০৭-১১ সেমি): কালিম্পং, কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুর জেলার এক বা দুটি জায়গায়।
উত্তরবঙ্গের সমস্ত জেলায় ৩০-৪০ কিমি প্রতি ঘণ্টা বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
জল ছাড়ায় বাড়ছে চিন্তা
রাজ্যজুড়ে বৃষ্টির পূর্বাভাসের মধ্যেই একাধিক জলাধার থেকে জল ছাড়া শুরু হওয়ায় নিচু এলাকায় নতুন করে জল জমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ডিভিসি: ঝাড়খণ্ডে অতিবৃষ্টির কারণে মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে ৩২ হাজার ৫০০ কিউসেক করে জল ছাড়া হয়েছে।
রাজ্য সেচ দফতর: দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে আজ সকাল সাতটার পর থেকে ৫৯ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে।
এছাড়াও, সুন্দরবন এলাকায় সকাল থেকেই মেঘলা আকাশ এবং ঝোড়ো হাওয়া বইছে। এই দুর্যোগের কারণে আগামীকাল পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।