পুজোর মুখে পর্যটন শিল্পের মাথায় বাজ! ডুয়ার্স যাওয়ার লাইফ লাইন ‘কালিখোলা সেতু’ বিপজ্জনক, কতদিনের জন্য বন্ধ থাকল জলদাপাড়া?

টানা প্রবল বর্ষণ ও বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলা। তিস্তা, জলঢাকা-সহ একাধিক নদী ফুঁসে ওঠায় জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পর্যটক ও বনকর্মীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কুনকি হাতির সাহায্যে পর্যটক উদ্ধার
পুজোর মরশুমে জাতীয় উদ্যানে ঘুরতে আসা বহু পর্যটক রবিবার জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ভিতরে আটকে পড়েন। বন্যপ্রাণী বিভাগের বনাধিকারিক প্রবীণ কাশোয়ান জানান, প্রবল জল ঢুকে যাওয়ার কারণে বহু রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। পরে কুনকি হাতির সাহায্যে নদীপথে ওই পর্যটকদের উদ্ধার করা হয়।

বনাধিকারিক আরও বলেন, “জাতীয় উদ্যানের অনেক রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সেতু জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে।” পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এবং ক্ষয়ক্ষতির পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ থাকবে বলে তিনি জানান।

লোকালয়ে বন্যপ্রাণ, পর্যটন শিল্পে বড় ক্ষতি
জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান থেকে প্রচুর বন্যপ্রাণী জলে ভেসে গিয়েছে। প্রাণের দায়ে তারা লোকালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। এই মুহূর্তে বন বিভাগের কর্মীদের কাছে ভেসে যাওয়া বন্যপ্রাণীদের উদ্ধার করে ফিরিয়ে আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

অন্যদিকে, ডুয়ার্স ও জলদাপাড়াকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পর্যটন শিল্পের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নদীর বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পর্যটন ব্যবসায়ীরা বিপাকে। ইতোমধ্যে অনেক পর্যটক তাঁদের বুকিং বাতিল করেছেন।

ডুয়ার্স যাওয়ার পথে ভুটান থেকে নাগরাকাটা হয়ে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের কালিখোলা সেতু বিপদজনক অবস্থায় রয়েছে। আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিজ্ঞা জানিয়েছেন, এই সেতুটি ডুয়ার্সের লাইফ লাইন। দ্রুত সেতুটি সাড়াই করার চেষ্টা করছে প্রশাসন।

সোমবার রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এলাকা পরিদর্শনে আসছেন।