পুজোয় কদর নেই, তবুও ৫০ বছর ধরে শোলাশিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছেন এক শিল্পী

দুর্গাপুজোর সময়ও শোলাশিল্পী গোলাপ সরকারের ঘরে যেন অন্ধকার। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন তিনি। কিন্তু নিজের রাজ্যে যখন এই শিল্পের কদর কমছে, তখন প্রতিবেশী বিহারে তার তৈরি শোলার জিনিসপত্রের চাহিদা বাড়ছে।
বিহারে কদর, নিজের রাজ্যে ব্রাত্য
বুনিয়াদপুর পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গোলাপ সরকার ছোটবেলায় তার বাবার কাছে শোলাশিল্পের কাজ শিখেছিলেন। তিনি এখন হস্তশিল্পী হিসেবে বেশ পরিচিত, বিশেষ করে বিহারে তার কদর অনেক বেশি। সেখানে বর-কনের জন্য শোলার মুকুট তৈরি করেন তিনি। এছাড়াও তার তৈরি জিনিস উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও যায়। কিন্তু এত কদর থাকা সত্ত্বেও, নতুন প্রজন্ম এই পেশায় আসছে না। তাদের আক্ষেপ, পেটের দায়ে এই শিল্প থেকে দূরে চলে যাচ্ছে অনেকেই।
গোলাপের স্ত্রী অঞ্জলি সরকার জানান, পরিশ্রম অনুযায়ী শোলার তৈরি জিনিসের দাম পাওয়া যায় না, তাই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। বর্তমানে দুর্গাপুজোয় শোলার সাজের ব্যবহারও কমেছে।
কেন এই শিল্পের বেহাল দশা?
শিল্পীরা অভিযোগ করেন, শোলাশিল্পের জন্য সঠিক কাঁচামাল পাওয়া কঠিন। এই কারণে তাদের বিহার থেকে শোলা কিনে আনতে হয়। এছাড়াও, সরকার বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই শিল্পের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। যার ফলে নতুন প্রজন্ম এই পেশায় আসতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
গোলাপ সরকার জানান, তিনি ৫০ বছর ধরে এই কাজ করছেন, কিন্তু এখনো কোনো সরকারি সাহায্য বা শিল্পী ভাতা পাননি। বহুবার আবেদন করেও কোনো সুরাহা মেলেনি।
প্রশাসনের আশ্বাস
অন্যদিকে, বুনিয়াদপুর পুরসভার চেয়ারম্যান কমল সরকার জানান, গোলাপ সরকার এখনো কোনো সরকারি সাহায্যের জন্য আবেদন করেননি। তিনি যদি দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে আবেদন করেন, তাহলে তারা তাকে ভাতা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। একই ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন জেলা শিল্প কেন্দ্রের ম্যানেজার স্বপন কুমার প্রামাণিকও। তিনি দ্রুত গোলাপ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
গোলাপ সরকার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে চান। তিনি বলেন, প্রশাসন যদি চায়, তবে তিনি নতুন প্রজন্মকে এই শিল্পের প্রশিক্ষণ দিতে পারেন।