“কম সোনা কেনার আর্জি!”-উল্টে UAE-এর থেকে রেকর্ড পরিমাণ সোনা কিনছে ভারত, কেন?

ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে সোনা আমদানি করা ছাড়া উপায় থাকে না। আর এই আমদানি বিল সম্প্রতি আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষকে কম সোনা কেনার আর্জি জানালেও আমদানির পারদ কমছে না। বিশেষ করে সরকার আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার পরেও সোনার বিল প্রতি মাসেই বেড়েই চলেছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই আমদানির একটি বিশাল অংশ আসছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী বা ইউএই থেকে। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ সোনা কেন ইউএই-এর কাছ থেকেই কিনছে ভারত?

পরিসংখ্যান বলছে, বছরের শুরুতে যেখানে ৭.৪৯ বিলিয়ন ডলারের সোনা আমদানি করেছিল ভারত, ২০২৬-এর এপ্রিল-জুনের মধ্যে তা ৪৭.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১১.০১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বাড়ার পাশাপাশি এই বৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে অন্য এক বাণিজ্যিক কৌশল। জুন ২০২৬-এ ইউএই থেকে সোনা কেনার পরিমাণ ১৭৫.২ শতাংশ বেড়ে ৬৪৯.৪ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যেখানে গত বছরের ১.৪০ বিলিয়ন ডলারের আমদানি লাফিয়ে বেড়ে চলতি বছরে ৩.১৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যার বৃদ্ধির হার ১২৪.৮ শতাংশ। অথচ একই সময়ে অন্যান্য দেশ থেকে সোনা কেনার পরিমাণ ১৭.৭ শতাংশ কমে ১.৩২ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

কেন ইউএই থেকে সোনা কেনা বাড়ছে?

এর আসল রহস্য লুকিয়ে রয়েছে ভারত এবং ইউএই-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্টে (FTA)। এই চুক্তি অনুযায়ী, ইউএই থেকে নির্দিষ্ট কোটার সোনা ভারতে ১৪ শতাংশ শুল্কে প্রবেশ করতে পারে। পক্ষান্তরে, অন্যান্য দেশ থেকে সোনা আনতে গেলে গুনতে হয় ১৫ শতাংশ শুল্ক।

জিটিআরআই-এর (GTRI) প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তবের মতে, শুল্কের এই মাত্র ১ শতাংশের তফাতই বাণিজ্য ক্ষেত্রে বিলিয়ন ডলারের ফারাক গড়ে দিতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই চুক্তির সুযোগ নিয়ে এখন অন্য দেশগুলিও ইউএই-এর পথেই ঘুরপথে ভারতে সোনা পাঠাচ্ছে, যদিও সেই নেপথ্য কারবারীদের আসল পরিচয় এখনও স্পষ্ট নয়।