যুদ্ধ শুরুর পর কিভে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় হামলা, নিহত ২, সরকারি ভবনেও আঘাত

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম ইউক্রেনের রাজধানী কিভ-কে লক্ষ্য করে সবচেয়ে বড় হামলা চালাল রাশিয়া। রবিবার রাতের এই হামলায় ৮০০-রও বেশি ড্রোন এবং ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ভয়াবহ এই আক্রমণে এক মহিলা ও তার তিন মাসের শিশুসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৭ জন।
সরকারি ভবনে প্রথম আঘাত
এই হামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, রাশিয়া এই প্রথমবার ইউক্রেনের কোনো সরকারি ভবনে সরাসরি আঘাত হেনেছে। কিভের মন্ত্রিসভার দফতরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ভবনটির ছাদ ও উপরের তলা উড়ে গেছে। ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিডেনকো এই হামলাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন, “আমরা ভবনটি আবার নির্মাণ করতে পারব, কিন্তু মৃতদের ফিরিয়ে আনা যাবে না। এই হামলার বিরুদ্ধে বিশ্বকে সোচ্চার হতে হবে এবং রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনা বন্ধ করতে হবে।”
হামলার ভয়াবহতা
ইউক্রেনের বায়ুসেনার মুখপাত্র ইউরি ইহনাত জানান, রাশিয়া ইউক্রেনের ৩৭টি এলাকায় ৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫৬টি ড্রোন ছুড়েছে। তবে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনী ৭৪৭টি ড্রোন এবং চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
কিভের প্রশাসনিক প্রধান তাইমুর তিকাচেনকো জানিয়েছেন, ধ্বংসাবশেষের নিচ থেকে মা ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই হামলায় কিভের কমপক্ষে ১০টি স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরের মেয়র ভিতালি ক্লিত্সচকো জানান, একটি চারতলা এবং একটি নয়তলা ভবনে সরাসরি হামলা হয়েছে। গত দুই সপ্তাহের মধ্যে এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের হামলা।
কূটনৈতিক তৎপরতা ব্যর্থ
এই হামলার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। জেলেনস্কি শান্তির জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রস্তুতি নিলেও, এই হামলার পর শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।