ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের দলীয় অফিসে ভয়াবহ ভাঙচুর! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিশানায় সরাসরি কোন প্রভাবশালী মহল?

কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে আকস্মিক ভাঙচুর, তাণ্ডব এবং লুটপাটের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সোশাল মিডিয়ায় ফের অত্যন্ত জোরালো ও আক্রমণাত্মক ভাষায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের অফিসিয়াল এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি বিস্ফোরক পোস্ট করে তিনি সরাসরি কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপি এবং রাজ্য পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাকে একযোগে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, গত এক মাসের ব্যবধানে তাঁর আমতলা এবং ক্যামাক স্ট্রিট—এই দুটি সুনির্দিষ্ট দলীয় কার্যালয়েই পরিকল্পিতভাবে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকাশ করা সিসি ক্যামেরা (CCTV) ফুটেজ এবং অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, এদিন একেবারে ভোরে অর্থাৎ প্রায় সাড়ে চারটে নাগাদ একদল অস্ত্রসজ্জিত দুষ্কৃতী জোরপূর্বক কলকাতার ব্যস্ততম অঞ্চলের এই দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। অফিসে উপস্থিত তৃণমূল কর্মীদের নির্মমভাবে মারধর করা হয়, তাঁদের হাত থেকে জোর করে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়, আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম অবাধে ভাঙচুর করা হয় এবং গোটা অফিস চত্বর তছনছ করে দেওয়া হয়। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অভিষেক লিখেছেন, আজ ভোরে ক্যামাক স্ট্রিটে যা ঘটেছে, তা আইনের শাসনের ওপর এক চরম লজ্জাজনক ও নগ্ন আক্রমণ। অস্ত্রহ হাতে একদল লোক যদি একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে ঢুকে এই ধরনের ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে পারে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই ভয়াবহ হামলার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন অভিষেক। তাঁর দাবি, হামলা চলাকালীন দলের কর্মী এবং আইনজীবীরা চরম বিপদের মুখে পড়ে বারবার পুলিশকে ফোন ও ইমেল করলেও দীর্ঘ প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো সাড়াশব্দ বা সাহায্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ এবং অভিযুক্তদের একাংশের মধ্যে কোনো ভয় বা আইনের অনুশাসন কাজ করছে না বলেই তোপ দেগেছেন তিনি। এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় তিনি আরও লিখেছেন, যদি এই ধরনের নগ্ন হিংসা ও অরাজকতা বিচারব্যবস্থার বিবেককে নাড়িয়ে না দেয়, তবে আর কী দেবে? এই হামলার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত প্রতিটি অপরাধীকে অবিলম্বে চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফ্তার করতে হবে। একই সঙ্গে কারা এই নারকীয় হামলার মূল পরিকল্পনা করেছিল এবং কার বা কাদের ইন্ধনে এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে, তার একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন তিনি। বারবার খবর দেওয়া সত্ত্বেও কেন পুলিশ সময়মতো ঘটনাস্থলে এসে পদক্ষেপ করল না, তারও কড়া জবাবদিহি তলব করেছেন সাংসদ।
এদিকে, এই হাই-প্রোফাইল ঘটনার প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই শেক্সপিয়র সরণি থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে ইমেল মারফত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত এফআইআর (FIR) রুজু করে পুলিশ ইতিমধ্যেই মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ খতিয়ে দেখে দেখা যাচ্ছে যে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি মনিটর সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র এঘর থেকে ওঘর করছেন এবং পরবর্তীতে সেই সমস্ত জিনিস সিঁড়িতে ফেলে রেখেই পালিয়ে যান। ধৃতদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ, ভাঙচুর ও চুরির সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অন্যপ্রান্তে, অভিষেকের সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। সব মিলিয়ে, ভোটের প্রাক্কালে ক্যামাক স্ট্রিটের এই অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা এখন তুঙ্গে পৌঁছেছে।