পুজোতেই কি পকেটে ভারী হবে ডিএ? শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল!

উৎসবের মরশুম শুরু হওয়ার আগেই সরকারি কর্মচারীদের জন্য এক অত্যন্ত সুখবর শোনালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি বিদ্যুৎ ভবনের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) প্রসঙ্গে এক বিস্ফোরক বার্তা দেন। তাঁর স্পষ্ট ঘোষণা, আসন্ন পুজোর মাসেই সরকারি কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে বকেয়া ডিএ-র টাকা। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের যে দীর্ঘদিনের আর্থিক ফারাক বা গ্যাপ রয়েছে, তা ধীরে ধীরে মিটিয়ে দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু বাবু অভয় দিয়ে বলেন, “আগামী দিনে বাকিটা মেকআপ করে দেব, কেউ একবিন্দু চিন্তা করবেন না।” তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।

এদিকে ডিএ বিতর্কের পাশাপাশি রাজ্যের শাসকদলের অন্দরের তীব্র কোন্দল ও আইনি লড়াইয়ে রাজ্য রাজনীতি এখন সম্পূর্ণ সরগরম। সতীর্থ তথা কামারহাটির বিতর্কিত বিধায়ক মদন মিত্রকে সরাসরি ১০ কোটি টাকার মানহানির ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিস পাঠালেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশিষ্ট আইনজীবীর মারফত এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি গত ১৯ জুলাই নিজ ফেসবুক পেজ থেকে লাইভ সম্প্রচার করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে মন্তব্য করেন মদন মিত্র। ফেসবুক লাইভের ওই সম্প্রচারে তিনি সরাসরি অভিষেককে ‘অপরাধী’ ও ‘খুনি’ বলে তোপ দাগেন। অভিষেকের আইনজীবীর পক্ষ থেকে পাঠানো নোটিসে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, মদন মিত্রের করা এই সমস্ত গুরুতর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, অসত্য এবং গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রমূলক ও বিদ্বেষপ্রসূত।

এই ঘটনার পরই দলের পক্ষ থেকে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নোটিসে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মদন মিত্রকে প্রকাশ্যে এবং নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাওয়ার জন্য কঠোর দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, মানহানির ক্ষতিপূরণ বাবদ একেবারে ১০ কোটি টাকা দেওয়ার দাবিও তোলা হয়েছে অভিষেকের আইনি দলের পক্ষ থেকে। শুধু তাই নয়, এই রাজনৈতিক ও আইনি সংঘাতের আবহেই ইডি (ED)-র পক্ষ থেকে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি অনুযায়ী, মদন মিত্রের ৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মধ্যে দুটিতেই একাধিক সন্দেহজনক লেনদেনের হদিশ মিলেছে। পাশাপাশি, রাজ্যের একাধিক পুরসভায় মোট ১২৫ জনের বেআইনি চাকরি পাওয়ার নেপথ্যেও কামারহাটির এই প্রভাবশালী বিধায়কের সরাসরি সুপারিশ কাজ করেছিল বলে জোরালো দাবি করেছে ইডি। পুজোর মুখে মহার্ঘ ভাতা প্রাপ্তির সম্ভাবনার আনন্দের মাঝেই এই আইনি নোটিস ও চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে শাসক শিবিরের অন্দরে এখন চরম অস্বস্তি ও তোলপাড় শুরু হয়েছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty