পুকুরে অস্ত্র লুকিয়ে রেখেও রক্ষা পেলেন না! গোসাবায় তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে হুলুস্থুল

দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবার রাজনীতিতে ফের এক চাঞ্চল্যকর অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বেআইনি অস্ত্র মামলার তদন্তে নেমে গোসাবার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সুবিদ আলি ওরফে ঝোড়ো ঢালীর বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও তাজা কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত ১৭ জুলাই জীবনতলা থানা ধৃতকে গ্রেফতার করার পর থেকেই তিনি পুলিশি হেফাজতে (PC) ছিলেন। দফায় দফায় জেরা করার মুখেই অবশেষে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করতে বাধ্য হন ওই তৃণমূল নেতা। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই রবিবার পুলিশ তাঁর পুকুরে বিশেষ তল্লাশি চালায় এবং সেখান থেকে দুটি মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র ও চার রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করে বাজেয়াপ্ত করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই গোসাবা থানায় রুজু হওয়া একটি মামলার তদন্তে নেমে ধৃতকে লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। জেরার মুখে ঝোড়ো ঢালী নিজেই স্বীকার করেন যে তিনি পুকুরের জলে অস্ত্রগুলি লুকিয়ে রেখেছিলেন এবং নির্দিষ্ট স্থানটি কোন জায়গায়, তা পুলিশকে চিহ্নিত করে দেখান। এরপর গোসাবা থানার বিশাল পুলিশবাহিনী অভিযুক্তকে সঙ্গে নিয়ে পঠনখালীর গোপালকাটা এলাকার ওই বাড়িতে পৌঁছায় এবং তাঁর দেখিয়ে দেওয়া নির্দিষ্ট পুকুর থেকে ১টি লম্বা বন্দুক, ১টি ছোট আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করে। এই ঘটনার পর ধৃতের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের ২৫(১)(বি) ধারায় গোসাবা থানায় নতুন করে একটি নির্দিষ্ট মামলা (মামলা নম্বর- ২৯৫/২৬) রুজু করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, এই ঘটনার পেছনে কোনো বড় ধরনের অস্ত্র চোরাচালান চক্রের সরাসরি যোগ থাকতে পারে। এই অস্ত্রগুলি ঠিক কী উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, কোথাও কোনো নাশকতার ছক ছিল কি না, কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক কার্যকলাপে সেগুলি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল কি না—তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। শাসকদলের একজন নেতার এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরগুলি তীব্র আক্রমণ শাণিত করেছে। গোসাবা জুড়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন চরমে পৌঁছেছে।