“পাহাড়ে বেআইনিভাবে গাছ কাটা চলছে”-কেন্দ্র ও ৫ রাজ্যকে নোটিশ সুপ্রিমকোর্টের

উত্তর ভারতের হিমালয় সংলগ্ন রাজ্যগুলোতে সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় বেআইনিভাবে গাছ কাটার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে আদালত মন্তব্য করে, বন্যার সময় বিপুল সংখ্যক কাঠের গুঁড়ি নদীতে ভেসে আসছে, যা বেআইনিভাবে গাছ কাটার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চ এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, “বন্যার সময় বিপুল সংখ্যক কাঠের গুঁড়ি নদীতে ভেসে আসতে দেখা গিয়েছে। আপাতত মনে হচ্ছে, বেআইনিভাবে গাছ কাটা চলছে। পাহাড়ের উপরেও এই কাজ হচ্ছে।”

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক, জলশক্তি মন্ত্রক, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ (NDMA), জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (NHAI) এবং পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, ও জম্মু-কাশ্মীর রাজ্য সরকারগুলোকে নোটিস জারি করেছে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জনস্বার্থ মামলার আবেদনকারী আদালতকে কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন:

  • একটি বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠন করে দুর্যোগের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা।
  • পরিবেশ ও সড়ক নির্মাণ সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা।
  • হিমালয়ের পরিবেশ ও নদীর সংরক্ষণে পদক্ষেপ নেওয়া।
  • সংবিধানের ১৪ ও ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের জীবনের অধিকার রক্ষা করা।

সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, দুই সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হিমালয়ের এই রাজ্যগুলোতে অতিবৃষ্টি, বন্যা এবং ভূমিধসের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে চলেছে, যা পরিবেশবিদদের মধ্যেও নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।